লাশ সিদ্ধ করে কঙ্কাল বিক্রি অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হোক

দৈনিক আমার সংবাদে প্রকাশিত উল্লেখিত শিরোনামের লোমহর্ষক দীর্ঘ প্রতিবেদন। যে কোনো পাঠক প্রতিবেদনটি পড়ে হতভম্ব হবেন। টাকার লোভে কবর থেকে লাশ উঠিয়ে কঙ্কাল বানিয়ে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার কবর থেকে লাশ চুরির ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হদিস করতে পারছে না, কারা কবর থেকে লাশ চুরি করছে, কোথায় বিক্রি করছে, বা কারা কিনে নিচ্ছে। এমন আজব, অদ্ভূত চুরির কা- সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি না থাকারই কথা।

সূত্র জানাচ্ছে, কবরের চোরাইকৃত লাশ গরম পানিতে সিদ্ধ করে কঙ্কাল তৈরি করা হয়। তারপর বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করা হয়। এই জঘন্য, অমানবিক ব্যবসার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের এক শ্রেণির অসাধু শিক্ষক ও ছাত্র জড়িত। দেশে ভেতরে ভেতরে চক্র গড়ে উঠেছে যারা সংঘবদ্ধ হয়ে রাতের অন্ধকারে কবর থেকে লাশ চুরি করছে। সেই লাশ গরম পানি দিয়ে সিদ্ধ করে কঙ্কাল তৈরি করে ব্যবসা করছে। লোভ মানুষকে এত নিচে নামাতে পারে তা ভেবে অবাক হচ্ছি! জানা গেছে, ঢামেকে, মিটফোর্ড হাসপাতালে, শাহবাগের ওষুধের দোকানে মোবাইল নম্বরসহ বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে যে, কঙ্কাল বিক্রি করা হবে। ওই মোবাইল নম্বরগুলো বিকাশকৃত।

ক্রেতারা বিকাশে টাকা পাঠিয়ে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে কঙ্কাল নিয়ে আসে। এ ভাবেই চলছে দেশে গোপনে গোপনে লোমহর্ষক কঙ্কাল ব্যবসা। এই ধর্ম প্রধান দেশে, মসজিদের দেশে, ১২ আউলিয়ার দেশে মৃত ব্যক্তির এতবড় লাঞ্ছনা? মনে হয়, আমাদের সমাজ মানবিক মূল্যবোধের চর্চা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টাকার লোভ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। না হলে যে ব্যক্তিকে মৃত্যুর পর অতিশয় যত্ন করে, জানাজা দিয়ে কবরে নামিয়ে শায়িত করা হয়, তার লাশটি চুরি হয় কবর থেকে? এটাতো মানুষের প্রতিই চরম নিষ্ঠুর আচরণ। লাশ চুরির এই অমানবিক ব্যবসা যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা উচিত। মেডিকেল কলেজের অসাধু, কঙ্কাল-ডাকাতির চক্রকে পুলিশের পাকড়াও করা উচিত। তাদের কঠিন শাস্তির সুপারিশ করছি আমরা।

আমরা আশা করছি, দৈনিক আমার সংবাদে, গত ২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ করবে এবং তারা লাশ চুরির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে। অবশ্যই বিভিন্ন সরকারি গোরস্থান থেকে লাশ চুরি হচ্ছে। পারিবারিক কবরগুলো যথেষ্ট হেফাজতে থাকে বলে সেখান থেকে লাশ চুরি হওয়া সম্ভব নয়। আমরা একই সঙ্গে দাবি করবো, দেশের প্রতিটি সরকারি গোরস্থানে পাহারা বসানো হোক। সমাজে নানা ধরনের অপরাধ হচ্ছে, কিডনি পাচার, শিশু পাচার, নারী পাচার; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, কবর থেকে লাশ উঠিয়ে, গরম পানি দিয়ে সিদ্ধ করে কঙ্কাল বানিয়ে বিক্রি করা।

আরও দুঃখজনক ঘটনা হলো, মেডিকেল কলেজের ছাত্রনেতারা এই অসাধু চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের সহযোগিতায় কবর থেকে চুরি করে উঠিয়ে আনা লাশ কঙ্কাল তৈরি করে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কতিপয় অসাধু লোক। জানা গেছে, প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকেও কঙ্কাল এনে বিক্রি করা হয়। মেডিকেল হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ চুরি হওয়া আর কবর থেকে লাশ চুরি হওয়া এক কথা নয়। কবরের লাশের সঙ্গে ধর্মানুভূতি এবং মানবিক অনুভূতি জড়িত।
এই লাশ চুরির ঘটনা মানবতা, আইনের শাসন, ধর্মীয় অনুশাসন লংঘন। জানিনা, আমাদের আল্লাম্মা হুজুররা এই গর্হিত কর্মের কোনো খবর বাখেন কিনা। তাঁরা এহেন অপরাধের কোনোদিন প্রতিবাদ করেছেন তার এমন দৃষ্টান্ত নেই। এমন জঘন্য ব্যবসা বন্ধ করার দৃঢ় পদক্ষেপ নেবার সুপারিশ জানাচ্ছি পুলিশ প্রশাসনকে।