Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

নভেম্বর ২০, ২০২২, ০৫:১৯ পিএম


আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের আটগাঁও গ্রামের এক নিরীহ পরিবারের জমিজমা ও বসত বাড়ি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ জেলা আ’লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা করতে গেলে কামরুল হাসান চৌধুরীর ভাই ডালাস চৌধুরী ও তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে ভুক্তভোগী মাহাদী হাসান চৌধুরীর উপর হামলা চালান। পরে সুনামগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে ডিবির ওসি ইকবাল বাহার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন বলে জানান মাহাদী হাসান। এরপরও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগী মাহাদী হাসানকে হুমকি দিয়ে আসছে কামরুল হাসান চৌধুরী ও তাঁর ভাইয়েরা। তাই গত ১৫ সেপ্টেম্বর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার জিডি নং ৬১২। এছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিত ভাবে বিষয়টি অবগত করেছে ভুক্তভোগী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটগাঁও গ্রামের আব্দুল মুকিত চৌধুরীর ছেলে মাহদী হাসান চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী একে অপরের চাচাতো ভাই। উক্ত আব্দুল মুকিত চৌধুরী ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুবাদে দিরাই পৌর শহরে চলে যায়। কিন্তু তিনি জীবিত অবস্থায় আটগাঁও এলাকায় তার নামীয় জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে আসেন।দেখাশোনার সুবাদে উক্ত কামরুল হাসান চৌধুরী ও তার ভাইয়েরা বছরের পর বছর চাষাবাদ করতেন। আর এরই সুযোগে দখল করে বর্তমানে নিজেদের দাবী করছে। অথচ জমির রেকর্ডিয় কাগজপত্র ও দলিল থাকা সত্ত্বেও মাহাদী হাসানকে কোনো ভাবেই জমির দখল দিচ্ছে না জেলা আওয়ামীলীগ নেতা কামরুল হাসান চৌধুরী ও তার ভাইয়েরা।

জিডি সূত্রে আরো জানা যায়, মাহদী হাসানের পিতা আব্দুল মুকিত চৌধুরী গত ২০০৮ সালে উনার ছেলে মেয়েদের নাবালক রেখে মারা গেলে আ’লীগ নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব উক্ত কামরুল হাসান চৌধুরী এবং তার আপন ভাই ডালাস চৌধুরী ও আবুল হাসান চৌধুরী মাহদী হাসানের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং মাহদীর পৈতৃক সমূহ জমিজমা ও বসত বাড়ি অন্যায়ভাবে ভোগদখল করতে থাকে।

ভুক্তভোগী মাহদী হাসান তার পৈতৃক সমূহ জমিজমা ফিরিয়ে দিতে উক্ত কামরুল হাসানকে তাগাদা করিলে দেই-দিচ্ছি’র আশ্বাস দিয়ে আসছে কয়েক বছর ধরে। উল্টো মাহদী হাসানকে তার পিতার নামীয় সম্পত্তি লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করে বলেও জানান ভুক্তভোগী মাহদী হাসান চৌধুরী।

মাহদী হাসান জানান, বর্তমানে কামরুল হাসানের ভাই আবুল হাসান ও ডালাস আদালতে একটি জাল দলিল তৈরি করে আমাদের নামে মামলা করেছে। উক্ত দলিল টি ১৯৬৩ সনের নান্দাইলের নামে একটি জাল দলিল যা আদালতে প্রমাণিত হবে। কারণ আমার পিতা ও মাতার নামীয় বর্তমান এর,এস রেকর্ডভুক্ত সমস্ত ভূমি ও জমির দলিল সুনামগঞ্জ জেলা রেকর্ড  রুম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। একটি দলিলে উল্লেখ্য আছে ১৯৮৬ সনে হাজেরা বিবি ৪০২ খতিয়ানের ৩২৩৯ দাগের এক একর ২০ শতক বোর রকম জমি আমার মাতা জোস্না বেগমকে শাল্লা থানা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে যান। যার কারণে উক্ত ভূমি ও জমি বর্তমানে আমার পিতা এবং মাতার নামে এরএস রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। তাহলে কিভাবে কামরুল হাসান চৌধুরীর  পিতা ও হাজেরা বিবির সৎ ছেলে হারুন অর রশীদের নামে ১৯৬৩ সনে দানপত্র দলিল তৈরি করলো? কামরুল হাসানের এরকম প্রতারণা কাম্য নয় বলে মাহদী হাসান চৌধুরী জানান যে উনি একজন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা উনার কাছ থেকে এরকম প্রতারণা অন্য নেতাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে বলে মনে করেন।

ভুক্তভোগী মাহদী হাসান চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসনের ভাই ডালাস চৌধুরী ও আবুল হাসান চৌধুরী গ্রামের বাড়ি গেলে তাকে  খুন করারও হুমকি দেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাল্লা থানায় জিডি করেছেন। এছাড়াও সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে আটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি মেম্বার এনামূল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কামরুল হাসান ও মাহদী হাসানের বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতিপূর্বে একটি শালিসের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু কামরুল হাসান আদালতের দোহাই দিয়ে বলেন ১৯৬৩ সনে হাজেরা বিবি উনার সৎ ছেলে কামরুল হাসানের পিতা হারুন অর রশীদকে নান্দাইলে দানপত্র দলিল করে দিয়ে গেছেন তাই শালিসে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুনামগঞ্জ ডিবির উপ পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা হয়েছে। তবে কোনো সংঘর্ষে না জড়িয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাহাদীকে বলা হয়েছে।

আটগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন্ নোমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসার কথা জানানো হয়েছে। তবে কামরুল হাসান চৌধুরী এলাকায় না থাকায় বসা সম্ভব হয়নি। কামরুল হাসান জানিয়েছেন বাড়িতে আসলে বসার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, জিডি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএম

 

Link copied!