সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
জুন ৯, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নলডাঙ্গা রেলস্টেশন ও ১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তি দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এর আগেই নলডাঙ্গা বন্দর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ দখলদার স্থাপনা অপসারণ না করায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগের বিভাগীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ডিও) মো. মুনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে রেলওয়ে পুলিশ ও সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে নির্মিত ৫০টিরও বেশি দোকান ও স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
রেলওয়ের সার্ভেয়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। বারবার সতর্ক করার পরও দখলদাররা স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিভাগীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনজুরুল ইসলাম বলেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। নলডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৫০টির বেশি দোকানঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
এ সময় রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো মো. ফোরকানসহ রেলওয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্টেশন এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযানের ফলে রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্টেশন এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
এএন