ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এলো

সমন্বিত ও অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য (চিনি ও ভোজ্যতেল) বিদ্যমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সংশোধন ও ব্যয় বিবরণী হালনাগাদকরণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অনুবিভাগ) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

সভা শেষে তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) কমিটির সদস্যরা বেশি বড় পরিশোধনকারী মিলে পরিদর্শন করবেন। সেখানে আমদানি মূল্য, প্যাকেজিং ও অন্যান্য খরচসহ সব পর্যালোচনা করা হবে।

পর্যালোচনা করার পর দাম কম বা বেশির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব। 

বৈঠকে দেশে বড় বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপসহ বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (মূসক গোয়েন্দা ও পরিদর্শন) বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণের আলোচনায় অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর প্রতিনিধিরাও।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে দেশে ভোজ্য তেল বাজারজাতকারী ব্যবসায়ীদের সমিতি ‘বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ কয়েক মাস ধরে তেলের দাম বাড়াতে চাচ্ছে। কোনো কোনো মাসে তিন দফা দর বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে যে দাম, তাতে তাদের লোকসান হচ্ছে। তবে সরকার দাম বাড়ানোর বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু ভাবছে না। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা একতরফা নতুন দাম ঠিক করে আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়। তেল ভেদে লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল তারা।

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বৈঠক ডাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৬০ টাকা। এই তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা বাড়াতে প্রস্তাব করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তাই হলে খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি মূল্য দাঁড়াত ১৬৮ টাকা। মিলগেট মূল্য হতো ১৫৮ টাকা, আর পরিবেশক মূল্য দাঁড়াত ১৬২ টাকা।

সেই সঙ্গে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি ৯ টাকা এবং খোলা পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

তা কার্যকর হলে বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য হতো ১৪৫ টাকা; যার মিলগেট মূল্য দাঁড়াত ১৪২ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১৪৩ টাকা।

আর পাম অয়েলের খুচরা মূল্য হতো লিটারপ্রতি ১২৯ টাকা। মিলগেটে মূল্য দাঁড়াত ১২৬ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১২৭ টাকা।

আমারসংবাদ/জেআই