Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সংকট কাটছে না ভোজ্যতেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১৫, ২০২২, ১২:৩৫ এএম


সংকট কাটছে না ভোজ্যতেলের

রাজধানীর আগারগাঁও বিএনপি বাজারে শুধু সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড (তীর) ও শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (পুষ্টি) কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেল এ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

খুচরা বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, আরও বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় হয়তো এমন সংকট তৈরি হয়েছে। গতকাল শনিবার বিএনপি বাজার ঘুরে দুটি কোম্পানির এক ও পাঁচ লিটার বোতলজাত তেল দেখা যায়। প্রতি লিটার ১৯৮ ও পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৯৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বিএনপি বাজারের বিল্লাল স্টোরের মালিক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। সব কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। আমাদের এখানে শুধু তীর ও পুষ্টি কোম্পানি সয়াবিন তেল দিচ্ছে। অন্যান্য কোম্পানিগুলো দেড় মাস ধরে কোনো তেল দিচ্ছে না। এসব কোম্পানি বাজারে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।

পর্যাপ্ত সয়াবিন তেল সরবরাহ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোম্পানির যারা অর্ডার কাটছে তারা বলছেন, এই দামে তাদের (কোম্পানি) পোষায় না। তারা আরও বেশি দাম চায়। কোম্পানির নাকি আরও বেশি দামে কি-না। তাই কম করে অর্ডার কাটছে। বিএনপি বাজারের খুচরা বাজার করতে এসেছেন রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো আবারো সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য নাটক করছে। সরকারের উচিত এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়া। অন্যদিকে, মহাখালী কাঁচাবাজারে তীর ও বসুন্ধরা সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত তেল নেই। 

বিক্রেতারা জানান, অন্যান্য কোম্পানির কেউ বাজারে আসছেন না। রোজার ঈদের আগে-পরে সয়াবিন তেল একেবারেই ছিল না। মহাখালী আল্লাহর দান স্টোরের মালিক কাজল মিয়া বলেন, সব কোম্পানির তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চাহিদা মতো সয়াবিন তেল পাচ্ছি না। 

তবে কয়েকটি বাজার ঘুরে তীর সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও অন্যান্য কোম্পানির খবর নেই। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করে— সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড (তীর), বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড (রূপচাঁদা), মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড (ফ্রেশ), বসুন্ধরা অয়েল রিফাইনারি মিল (বসুন্ধরা), শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পুষ্টি), এস আলম সুপার এডিবল অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এস আলম), প্রাইম এডিবল অয়েল লিমিটেড (প্রাইম) ও গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড (রয়্যাল শেফ)।

এদিকে, গুলশান বাড্ডা লিংক রোডের গুদারাঘাট কাঁচাবাজারেও সয়াবিন তেলের সংকট দেখা যায়। বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত সয়াবিন তেল মিলছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

গুদারঘাট কাঁচাবাজারের মুরাদ স্টোরের মালিক মুরাদ হোসেন বলেন, ক্রেতাদের তেল দিতে পারি না। দোকানে দরকার দুই কার্টন, কোম্পানি এক কার্টনও দেয়নি। সয়াবিনের সংকটের কারণে আমরা ক্রেতাদের হারিয়ে ফেলছি। সয়াবিন তেল ছাড়া বেচাকেনা হয় না। কোনো কোম্পানি পর্যাপ্ত তেল দেয় না। তীরে তেল দিচ্ছে স্বল্প পরিমাণে। কিন্তু অন্যান্য কোম্পানি মার্কেটে আসেনি।

তবে কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা জানান, তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ে বাজার স্বাভাবিক হবে। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি সয়াবিন তেল কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। সয়াবিন তেলের সংকটের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ এইচ এম সফিকুজ্জামানে ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অভিযানে আরও ৫২ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ : ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী গোপনে ভোজ্যতেলের মজুত গড়ে তুলেছে। গতকাল শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানা শহরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালত যৌথ অভিযান চালিয়ে মজুত করে রাখা প্রায় ৫২  হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছে। পরে জব্দ করা তেল ন্যায্য মূল্যে বিক্রিসহ কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সারা দেশ থেকে আমার সংবাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যৌথ অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট। গতকাল শনিবার সকাল ও দুপরে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পাবনা : পাবনার শরৎনগর উপজেলা বাজারে দুটি দোকান ও গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুত চার হাজার ৪২ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুর ২টায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা শাখার সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে উপজেলার শরৎনগর বাজারের মাহাদী হাসান ট্রেডার্সে এক হাজার পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন, দুই হাজার ৮৭০ লিটার খোলা সয়াবিন তেল ও কুন্ডু স্টোরে ১৭২ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। এ সময় মাহাদী ট্রেডার্সের মালিক মাসুম বিল্লাহকে ৫০ হাজার ও কুন্ডু স্টোরের মালিক খোকন কুমার কুন্ডুকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গফরগাঁও : সারা দেশের মতো ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পৃথক অভিযানে ১৯৭ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল জব্দসহ তিন দোকানিকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের। 

ভোলা : ভোলার লালমোহন উপজেলা সদরে চার প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অবৈধ মজুত ৩০০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরের দিকে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন অধিদপ্তর ভোলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ও লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পল্লব কুমার হাজরা।

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজারে অবৈধভাবে মজুত ৯ হাজার ১৬৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় জরিমানা করা হয়েছে এক লাখ টাকা। গতকাল শনিবার দুপুরে মেসার্স সালাউদ্দিন স্টোর থেকে এই তেল জব্দ ও জরিমানা করা হয়। অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমীনের নেতৃত্বে র্যাব-৯ এর সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বাউফল : বাউফলের পৌর শহরের বাজার রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় হাজার ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে সয়াবিন তেল মজুত, মূল্য তালিকা ও লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন তিন ব্যবসায়ীকে ৬১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টের সাবেরিন স্টোর নামে একটি দোকানে অবৈধ মজুত করা ৫০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম। 

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীতে ভোজ্যতেলের দুই পাইকারি বিক্রেতার গুদামে অভিযান চালিয়ে মজুত দুই হাজার লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়তি দামে বিক্রির আশায় আগের দামে কেনা এসব ভোজ্যতেল তারা মজুত করে রেখেছিল। গতকাল দুপুরে নগরীর ডবলমুরিং থানার কর্ণফুলী মার্কেটে দুই দোকানের গুদামে অভিযান চালায় অধিদপ্তরের টিম।

ফরিদপুর : ফরিদপুর সদরে গোডাউনে মজুত করে রাখা চার হাজার লিটার বোতলজাত ও ৮০০ লিটার খোলা সয়াবিন তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সুবল স্টোর নামের একটি মুদি দোকানের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১০ দিনের জন্য দোকানটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

গতকাল সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ফরিদপুর শহরের শরীয়তুল্লাহ বাজার ও শোভারামপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা তেল বোতলের গায়ে লেখা দামে এলাকাবাসীর কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী, জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ, জ্যেষ্ঠ জেলা বিপণন কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন ও জেলা সেনিটারি পরিদর্শক বজলুর রশিদের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।