Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

অবলোপন ঋণের সুদ মওকুফের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ২৪, ২০২২, ০৭:৪২ পিএম


অবলোপন ঋণের সুদ মওকুফের সুযোগ

ঋণের পাওনা আদায়ের ক্ষীণ সম্ভাবনার অনুমানকৃত মন্দমানের খেলাপি ঋণের (অবলোপনকৃত ঋণ) সুদ মওকুফের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অবলোপনকৃত ঋণের আসল পরিশোধ করে ঋণের সমস্ত সুদ মওকুফের সুযোগ পাবেন ঋণগ্রহীতারা। তবে কোন ব্যাংক জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণের সুদ মওকুফ করতে পারবে না। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোন ঋণগ্রহীতার ধারাবাহিক ৩ বছরের আর্থিক বিবরণীতে নিট মুনাফা ইতিবাচক দেখা গেলে তার গৃহীত ঋণের সুদ মওকুফ করা যাবে না। আর ব্যাংকের আয় খাতে ক্ষতি করেও সুদ মওকুফ করা যাবে না। এমনকি ঋণের সুদ মওকুফ করতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে। পর্ষদও ১০ লাখ টাকার অধিক ঋণের সুদ মওকুফ করতে পারবে না। এছাড়া সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে ব্যাংকের তহবিল ব্যয়ের অর্থ আদায় নিশ্চিত করতে হবে। 

নির্দেশনায় বলা হয়, তিন বছর ধরে বন্ধ প্রকল্প, ঋণের জামানত ও প্রকল্পের সম্পত্তি বা প্রকল্প উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয়ের পরেও তহবিল ব্যয় মেটানো সম্ভব না হলে এবং পাওনা আদায়ের লক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরও পাওনা আদায় করা সম্ভব না হলে তহবিল ব্যয় আদায়ে শর্ত শিথিল করা যেতে পারে। এছাড়া ঋণগ্রহীতার মৃত্যু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী, মড়ক, নদী ভাঙ্গন বা দুর্দশাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা যৌক্তিক কারণে ঋণ পরিশোধে অপারগ হলে সেই নির্দিষ্ট বছরের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক তহবিল ব্যয় আদায়যোগ্য হবে না। কিন্তু তহবিল ব্যয় আদায়ের শর্ত শিথিল করার যৌক্তিকতা প্রমাণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা বিভাগের মতামত নিতে বলা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ মানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালান্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন বলে। অর্থাৎ ঋণ অবলোপন হলে শুধু ব্যাংক তার স্থিতিপত্র থেকে ঋণ বাদ দিয়ে আলাদাভাবে হিসাব করতে পারে। গ্রাহক ঋণ মাফ পান না। আর অবলোপনযোগ্য ঋণ ও বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকের অনুকূলে বন্ধকীকৃত সম্পত্তি (যদি থাকে) নিয়মানুগভাবে বিক্রয়ের প্রচেষ্টা গ্রহণ, ব্যাংকে নিশ্চয়তা প্রদানকারী ব্যক্তি-ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে পাওনা অর্থ আদায়ে সমর্থ্য না হলে উক্ত ঋণ-বিনিয়োগ অবলোপনের আওতায় আসবে। অবলোপনের জন্য নির্বাচিত ঋণ-বিনিয়োগ হিসাবসমূহের ক্ষেত্রে পূর্বে আইনগত ব্যবস্থা সূচিত না হয়ে থাকলে অবলোপনের পূর্বে অবশ্যই অর্থ ঋণ আদালত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে। 

এদিকে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী অবলোপনের পরও সংশ্লিষ্ট ঋণ-বিনিয়োগের উপর ব্যাংকের দাবি বহাল থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি অবলোপন-পরবর্তী সময়ে উক্ত অবলোপনকৃত ঋণ-বিনিয়োগ আদায়ের লক্ষ্যে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে। ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করে আসছে। ব্যাংকগুলো এখন তিন বছর পর মন্দ মানের খেলাপি ঋণ অবলোপন করে ব্যালান্স শিট বা স্থিতিপত্র থেকে বাদ দিতে পারে। বর্তমানে অবলোপন করার জন্য শতভাগ প্রভিশনও লাগে না। এছাড়া দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপন করতে মামলাও লাগে না।


আরএইচ/ইএফ