Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

দুদকে ব্যাংক এশিয়ার এমডির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ    

নিজস্ব প্রতিবেদক 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

জুন ২২, ২০২২, ০৬:১৭ পিএম


দুদকে ব্যাংক এশিয়ার এমডির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ    

ব্যাংক এশিয়ার এমডি মো. আরফান আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগবাণিজ্য- কম্পিউটার কেনার নামে টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংকের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রাখাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান চেয়ে দরখাস্ত দিয়েছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তাসহ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। 

গত সোমবার (২০ জুন) দুদক চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন মো. আরফান আলী। ১৯৯১ সালে আরব বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশনারি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করা আরফান আলী টানা দুই মেয়াদে ব্যাংকটির এমডি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। 

অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে চেষ্টা করছেন তৃতীয় মেয়াদে নিয়োগ পেতে। ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান আ. রউফ চৌধুরীর নিজস্ব লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে আরফান আলী ব্যাংকটিতে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের রাজত্ব। গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিন্ডিকেট বাহিনী। দুর্নীতি-অনিয়ম আর চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার নামে হাতিয়ে  নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। মো. আরফান আলীর বাবা রেলওয়ের কর্মচারী থাকায় তিনি বেড়ে উঠেছেন কমলাপুল রেলওয়ের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কোয়ার্টারে। 

একসময়ে অর্থকষ্টে বেড়ে ওঠা মো. আরফান আলী ব্যাংক এশিয়ার এমডি পদটিকে ব্যবহার করছেন টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে। অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগবাণিজ্য-কম্পিউটার কেনার নামে টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংকের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রাখাসহ শত শত অভিযোগ রয়েছে এই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। 

তার স্ত্রী ব্যাংক এশিয়ার কেউ না হলেও তাকে টাকা দেয়া হলে মেলে নিয়োগ। ব্যাংক এশিয়ায় নিয়োগ পেতে হলে আগে এমডির স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়। তিনি চাকরিপ্রার্থীদের সিভি গ্রহণ করেন এবং সেই সিভি এমডি আরফান আলীকে দেন। 

যারা চাহিদামতো অর্থ দেন, তাদের সিভিগুলো এমডি আরফান আলী সই করে তার রক্ষিতা ও ব্যাংক এশিয়ার পিএমডি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা নাজমাকে দেন। এই নাজমার সঙ্গে এমডির অনৈতিক সম্পর্কের কথা ব্যাংক এশিয়ায় যেন ওপেন সিক্রেট। 

সাধারণ একজন কর্মকর্তার নামে রয়েছে উত্তরায় ফ্ল্যাটসহ কোটি কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ায় ২০ জন নিয়োগ পেলে তার মধ্যে মাত্র দুই শতাংশ লোক নিয়োগ পান নিজ যোগ্যতায়। বাকিরা নিয়োগ পান এমডিকে ম্যানেজ করে। এমডির আর্শীবাদপুষ্ট লোকদের আগে থেকেই প্রশ্ন দেয়া হয়। চেয়ারম্যান ও বোর্ড মিটিংয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাদের নিয়োগ দেন আরফান আলী। আরফান আলী তার পরিবারের কমপক্ষে ২০ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন এই ব্যাংকে। 

ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড এখন চলছে অযোগ্য লোক দিয়ে। এমডির আর্শীবাদপুষ্ট না হলে মেলে না প্রমোশন। গাড়ি সুবিধা দেয়া হয়নি অনেক কর্মকর্তাকে। আরফান আলীর ব্যাংকের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। যখন যা মন চায় তা-ই করেন। তিনি যখন ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের প্রিন্সিপাল ব্যাঞ্চের ম্যানেজার ছিলেন, তখন কম্পিউটার কেনার নামে ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। 

সেখান থেকে তিন লাখ টাকা সরাসরি নিজের অ্যাকাউন্টে রাখেন, যা সবাই জানেন। নিজের লোকদের ভালো জায়গায় পোস্টিং দেন। নিজের বন্ধুকে বানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশনের হেড। নিজের বন্ধু হওয়ার সুবাদে জিয়া আরফিনকে ওই পজিশনে বসানো হয়েছে, যিনি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের কিছুই বোঝেন না। আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনেক কোম্পানিকে যোগ্যতার চেয়েও বেশি লোন দিয়েছেন এই আরফান আলী। মানিলন্ডারিংয়ে তিনি জড়িত বলে দাবি করেছেন এ ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা। তার এবং তার স্ত্রীর নামে-বেনামে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। গ্রাহকের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক এশিয়ার বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

এমডিসহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ব্যাংক এশিয়ার প্রতি আস্থা হারাতে বসেছেন গ্রাহক। তাই ব্যাংক এশিয়াকে বাঁচানোর স্বার্থে এমডি মো. আরফান আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, বিষয়টি দুদক যাচাই-বাছাই করে দেখবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে আরফান আলীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমার  জানা নেই।