Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯

চালু হচ্ছে পিকে হালদারের চার কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২, ০৬:২৫ পিএম


চালু হচ্ছে পিকে হালদারের চার কোম্পানি

* পরিবর্তিত পর্ষদের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ
* ২৬০ কোটি দায়ে থাকা প্রতিষ্ঠান ৩৬ কোটিতে বিক্রি করতে চায় না ইন্টারন্যাশনাল লিজিং 
* ছোট গ্রাহকের দায় আগে পরিশোধ করা হচ্ছে, ৪৬৫২ গ্রাহকের ১৩৯ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে বর্তমান পর্ষদ

আর্থিক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতকারী আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) এর পাওনা ২৬০ কোটি টাকা। 

এর বিপরীতে তাদের বন্ধকী সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য মাত্র ৩৬ কোটি টাকা। তাই এসব প্রতিষ্ঠান বিক্রি না করে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে দুই থেকে চার বছরের মধ্যে লাভজনক করা যাবে বলে মনে করছে আইএলএফএসএল’র বর্তমান পর্ষদ।

পিকের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড, আনান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, নর্দান জুট ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি এবং রহমান কেমিক্যালস লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আইএলএফএসএল এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আইএলএফএসএল’র পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মশিউর রহমানসহ পর্ষদের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমতে, নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৮০ শতাংশ ঋণই খেলাপি হয়ে পড়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নেই। 

তাই জামানতের সম্পদ বিক্রি না করে কোম্পানিগুলোকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে অনেকগুলো কোম্পানির পর্ষদ গঠন করে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ নিয়েছে পিকে হালদারের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান। আমাদের প্রথম প্রচেষ্টা ছিল পিকে হালদারকে যদি আনতে পারি তাহলে তার কাছ থেকে এগুলো নেয়া সহজ ছিল। 

আর প্রক্রিয়ায় গেলে অনেক সময় লাগে। আর সে এমন কায়দায় ঋণ নিয়েছে সরাসরি ধরা কঠিন। কিন্তু তাকে এখনো আনা যায়নি। আগামীতে আনা যাবে কি না তা জানি না।

এজন্য তার কোম্পানি রেস্টাইলস যেটা ভালুকায় আছে সেটা হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে পর্ষদ পুনর্গঠন করেছি। চালু করে আয় করার চেষ্টা চলছে। কুমির চাষের এ প্রকল্প আশা করছি লাভজন হবে।

তিনি বলেন, আর একটা কোম্পানি আনান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ। এটা খুবই ভালো মুনাফার কোম্পানি। ফিটকিরি কোম্পানি, অনেককিছু চুরি করে নিয়ে গেছে লোকজন। 

আদালতের অনুমোদন নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন হয়েছে। চেয়ারম্যান ও পরিচালক আছে। তারা চেষ্টা করছে এটা চালু করতে পারে কিনা। এটা যদি চালু করতে পারে, তাহলে প্রফিট হবে। 

এছাড়া রহমান কেমিক্যালস গ্লুকোজ তৈরি করে। সেটা আমরা অনুমতি পেয়েছি, কিন্তু বোর্ড এখনো পুনর্গঠন হয়নি। আর নর্দান জুট চালুর জন্য লোকজন খুজছি পুরানো ঋণ থাকলো এর ওপর তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হবে, এটা চালাবে এবং আমাদের কিছু টাকা দেবে।

এসব প্রতিষ্ঠান লাভজনক করতে কতদিন লাগতে পারে জানতে চাইলে আইএলএফএসএল চেয়ারম্যান জানান, এটা বলা যায় না তবে দুই থেকে চার, পাঁচ বছর সময় গেলে যাবে। এটা কোনো উপায় নেই। কারণ ২৬০ কোটি টাকা ঋণের বন্ধকী সম্পত্তি ৩৬ কোটি টাকায় বিক্রি করে কোনো লাভ নেই। 

আমানতকারীদের পাওনা কিভাবে পরিশোধ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রথমে যাদের কম টাকা আমানত তাদের প্ররিশোধ করা শুরু করেছি। অর্থাৎ নিচ থেকে দেয়া হচ্ছে। 

নতুন বোর্ড আশার পর এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৫২ জন আমানতকারীকের ১৩৯ কোটি টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫২ জনের পুরো টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। 

এ ক্ষেত্রে যারা সুদ ছাড়া নিতে রাজি হচ্ছে তাদের আগে দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও দেয়া হবে। তবে আমাদের প্রাথমিক চেষ্টা আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫-২০১৯ সময়ের মধ্যে আর্থিক কেলেঙ্কারীর কারণে ক্ষতি হওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটি পুনরুদ্ধার এবং পুনর্গঠনের পথে রয়েছে।

 প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল; ২০১৫ সালের পরবর্তী সময় পর্যন্ত কোম্পানি পণ্যের বৈচিত্র্যময়তা ও পেশাদারিত্বের জন্য দেশের অন্যতম সেরা আর্থিক পরিষেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল।

আইএলএফএসএল এমডি মশিউর রহমান প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সামগ্রিক ব্যয় ২১ শতাংশ কমেছে, সুদের আয় প্রায় একই পর্যায়ে ছিল তবে তা বাড়বে। 

২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে আমাদের ৭০ শতাংশ সামগ্রিক ক্ষতি কমানো হয়েছে। তাই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ও এর গতিশীলতা ত্বরান্বিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

ব্যালেন্সশীট পুনর্গঠন করার জন্য কাজ করছে জানিয়ে এমডি জানান, আমাদের আমানত ও ঋণের দায়কে ইক্যুইটিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সাথে ইস্যু ম্যানেজমেন্ট পরিষেবার জন্য আমাদের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যার মাধ্যমে আমাদের সামগ্রিক দায়ের সাথে অর্জিত সম্পদের পরিপূরক সহাবস্থান বজায় রেখে নগদ প্রবাহ সৃষ্টির পথকে মসৃণ করবে।

আইএলএফএসএল এর একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান আইএল ক্যাপিটাল ২০২০ সালে ৭৫ লাখ টাকার নিট লোকসান থেকে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে বলে জানান মশিউর রহমান। 

প্রতিষ্ঠানটি ক্রমে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে এবং ২০২২ সালের জুনে আইএলএফএসএল কে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। আরেকটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড ২০২০ সালের নীট লোকসান ১৩৭ মিলিয়ন থেকে ২০২১ সালের ২৩ মিলিয়ন নামিয়ে এনেছে। 

ঋণের দায়ে ইক্যুইটি তে রূপান্তরিত করে ব্যালেন্স শীট পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে।

টিএইচ

Link copied!