Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

জাবিতে হল সুপারের বিরুদ্ধে গ্রন্থাগারের বই বিক্রির অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি

জানুয়ারি ১৭, ২০২২, ১০:৪০ এএম


জাবিতে হল সুপারের বিরুদ্ধে গ্রন্থাগারের বই বিক্রির অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফজিলাতুন্নেসা হলের সহকারী হল সুপারিনটেনডেন্ট ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে কোনো অফিস আদেশ ছাড়াই হল গ্রন্থাগারের বই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ্য অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রাধ্যক্ষ বলেন, ঘটনাটি আমি পরে জানতে পেরেছি। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে শীঘ্রই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। হলের বই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। এভাবে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রি করে দিতে পারে না। কোনো অফিস আদেশ ছাড়াই হলের মূল্যবান বই বিক্রি করে তিনি অপরাধ করেছেন। দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, গত শনিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফজিলাতুন্নেসা হলের মূল ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পানধোয়া এলাকার জনৈক ব্যবসায়ীর কাছে হল গ্রন্থাগারের বই বিক্রির এই ঘটনা ঘটে। এছাড়াও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রহরী মো. রাসেল হোসেন বলেন, আমি ভেতরে গিয়ে দেখি হলের দু’জন সিক গার্ল বস্তা ভরে গ্রন্থাগারের বই বের করছেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন ফাতেমা বেগম তাদেরকে বই বের করতে বলেছেন। ফাতেমা বেগম নিজে উপস্থিত থেকে হলের গ্রন্থাগারের বই বিক্রি করে দেন।

ফজিলাতুন্নেসা হলের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর তপন চন্দ্র সরকার বলেন, গ্রন্থাগারে ৭৬ কেজি বই ছিল। পরেরদিন ফাতেমা বেগম আমাকে বই বিক্রির ১১শ পঞ্চাশ টাকা দিতে আসেন। তখন আমি জানতে পারি প্রাধ্যক্ষ স্যারের অনুমতি ছাড়াই তিনি হলের গ্রন্থাগারের বই বিক্রি করেছেন। তাই আমি টাকা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করি।

অভিযুক্ত সহকারী হল সুপারিনটেনডেন্ট ফাতেমা বেগম বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ডাইনিং রুমে বইগুলো পড়ে ছিল। উইপোকা ধরে একটা পর্যায়ে আলমারিসহ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো। ডাইনিং রুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা না হওয়ায় আমি প্রাধ্যক্ষ স্যারের অনুমতি নিয়ে আলমারির তালা ভেঙে বইগুলো বের করি। ভেতরে কি ধরণের বই ছিল তা আমি জানতে পারিনি। পরিত্যক্ত ভেবেই আমি সেগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রয়োজনীয় বই হলে আমি কখনোই তা বিক্রি করতাম না। বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি। বিক্রির পরমুহূর্তেই আমি প্রাধ্যক্ষ স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি।

আমারসংবাদ/কেএস