Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

শাবিপ্রবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থী আটক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জানুয়ারি ২৫, ২০২২, ০৯:৫৫ এএম


শাবিপ্রবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থী আটক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী আটক করা হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের অভিযোগ, শাবিপ্রবির আন্দোলনে অর্থ সহায়তা করায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ জানান, আটকরা এখন পথে আছে। 

তিনি বলেন, থানায় হস্তান্তরের পর তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এর আগে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের নাম পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান স্বপন, আর্কিটেকচার বিভাগের রেজা নূর মঈন দীপ ও নাজমুস সাকিব দ্বীপ।

রেজার স্ত্রী জাকোয়ান সালওয়া তাকরিম বলেন, রেজা সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে মুদি কেনাকাটার জন্য গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট তুলে নেয়। তারা রেজার গাড়ি ফেরত দিতে বাসায় আসে এবং জানায় রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা বাসায় এসেছিল তাদের গাড়িতে সিআইডির স্টিকার লাগানো ছিল। এ সময় গাড়িতে তিনি হাবিবকে দেখেছেন।

রেজার স্ত্রী বলেন, শাবির উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে রেজা ও হাবিব আর্থিক সহায়তা করছেন। আরও অনেক বন্ধুদের কাছে থেকে তারা টাকা সংগ্রহ করেও দিয়েছেন। একারণে তাদের আটক করা হতে পারে।

শাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, এ রকম অভিযোগ আমরাও শুনেছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নানাভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। এর আগে আমাদের লেনদেনের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এসব করে আমাদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক সূত্র জানায়, অনেক সময় পুলিশের অন্যান্য ইউনিটগুলো সিআইডির সহায়তা চেয়ে থাকে। এটা আসলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযান। সিআইডি কেবল তাদের সহায়তা করেছে।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সাপোর্টও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে যে মেডিকেল টিম উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছিলেন, তারাও সেবা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের এক মুখপাত্র আরিফুল ইসলাম চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের সবার অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। তারা সবাই খিঁচুনি, ব্লাডে অক্সিজেন ও সুগার লেভেল কমে যাওয়া, ব্লাড প্রেশারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় পড়ছেন। তারা অর্গান ড্যামেজের ঝুঁকিতে আছেন।

গত ১৩ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

১৬ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হওয়ার পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্রুত উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।

দাবি মানায় বাধ্য করতে সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনের ভেতর উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। তাকে মুক্ত করতে উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ চেয়ে ১৯ জানুয়ারি থেকে অনশনে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৪ জন শিক্ষার্থী।

ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের অনশনের ১৪০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত অনশনরত শিক্ষার্থীদের ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাবিপ্রবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি আন্দোলনের ব্যয় বহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুদান চায়। 

আমারসংবাদ/জেআই