Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

‍‍`সবাই পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও‍‍`

নিজস্ব প্রতিনিধি

মে ১১, ২০২২, ১০:৩৪ এএম


‍‍`সবাই পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও‍‍`

বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে হলের ছাদ থেকে পড়ে মারা যাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী অমিত কুমার বিশ্বাসের আবাসিক হলের কক্ষ থেকে 'সুইসাইড নোট' পাওয়া গেছে। তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন তার সহপাঠীরা।

মঙ্গলবার (১০ মে) রাত ৯ টার দিকে শহীদ রফিক জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল আহমেদের উপস্থিতিতে বালিশের নিচ থেকে তার রুমমেটরা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেন। সুইসাইড নোটের লিখা থেকে ধারণা করা হয় অমিত কুমার আত্মহত্যা করেছে।

সুইসাইড নোটে লিখা ছিল, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার মস্তিষ্কই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী। আমি নিজেই নিজের শত্রু হয়ে পড়েছি অজান্তেই। নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত। আর না। এবার মুক্তি চাই। প্রিয় মা, বাবা, ছোটবোন সবাই পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।

এদিকে সুইসাইড নোটের হাতের লিখার সাথে অমিত বিশ্বাসের হাতের লিখার মিল আছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান।

এছাড়া শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, তার খাতার লিখার সাথে সুইসাইড নোটের হাতের লিখার মিল রয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ কেস হয়েছে, তাদের তদন্তের পরেই বলা যাবে এই লিখা তার কিনা।

তিনি আরো বলেন, তার রুমের পড়ার টেবিলে সুইসাইড বিষয়ক লেখা কিছু মন্তব্য দেখা গেছে। পুলিশের পরিদর্শনের পর আমরা রুমটি বন্ধ করে দিয়েছি।

অমিত কুমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ ব্যাচের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ও শহীদ রফিক-জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি খুলনায়।

জানা যায়, বটতলায় রুম মেটদের সাথে দুপুরের খাবারের পর তাদের রেখে একাই হলে চলে আসেন অমিত। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে পাঁচতলা হলের ছাদ থেকে ভারী কিছু নিচে পড়ার শব্দ শুনে বাইরে আসেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। বাইরে এসে অমিতকে মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। 

এসময় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। 

পরে এ্যাম্বুলেন্সে করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর দেখে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হলে বিকাল সাড়ে ৫টায় অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক ড. ইফরান।

অমিতের রুমমেট ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী রবিন ঘোষ বলেন, অমিত খুবই ভালো ছেলে। তার কোনও ধরনের হতাশা ছিল না। সে নিয়মিত মেডিটেশন করতো। আজ দুপুরে আমরা একসঙ্গে খাবার খেয়েছি। আত্মহত্যা করার মতো কোনো বিষয় আমাদের নজরে আসেনি। খাবারের পরে সে হলে চলে আসে। এর কিছুক্ষণ পর শুনি সে ছাদ থেকে পড়ে গেছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা তার দুইটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সুইসাইড নোটের হাতের লিখা মিলানোর জন্য দুটি খাতা আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমারসংবাদ/এআই