সহিংস ভোটেও সরব উপস্থিতি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউপি নির্বাচনে দবিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গতকাল দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন-আমার সংবাদ

মুখোমুখি সংঘর্ষ, জালভোট প্রয়োগ ও কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে গতকাল সারা দেশে শেষ হয়েছে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের মতো তৃতীয় ধাপেও নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত হয়েছেন দুজন। নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করায় চেয়ারম্যান-মেম্বর প্রার্থীসহ আটক হয়েছেন অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক। যদিও সহিংসতার এ ভোটেও সরব উপস্থিতি ছিলো সাধারণ ভোটারদের। তারা নিজ পছন্দের প্রতীক ও প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল থেকেই কেন্দ্রমুখী ছিলেন। 

গতকাল সারা দেশে এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। একই সাথে মাঠে ছিলেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানেও তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা ঠেকানো যায়নি। নির্বাচনি সহিংসতায় লক্ষ্মীপুরে সজিব হোসেন নামের একজন ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। 

জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক এবং ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। কুমিল্লায় প্রিজাইডিং অফিসার ও কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। জেলার বরুড়া উপজেলার ডেউয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, বেলা ১১টার সময় দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করে। এসময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বাম হাত ও পুলিশ কর্মকর্তার কোমরে ছুরিকাঘাত করে তারা। এসময় ধস্তাধস্তিতে কোমর থেকে পড়ে যায় পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তলটি। পরে কেন্দ্রের মধ্যেই মাটিতে পড়ে থাকা পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। 
আহতদের মধ্যে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

বরুড়া উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম জানান, হামলায় দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও এক এসআই আহত হয়েছেন। ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে মেহেরপুরের ধানখোলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জুগিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে। বেলা ১১টার দিকে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেনের সমর্থকরা বর্তমান মেম্বার মফিজুল ইসলামকে গালিগালাজ করে। 

এসময় তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর শুরু করেন। ঘটনার জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে দুইজন আহত হন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নে গোলাগুলি ও দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার দিকে কাটাখালী ও ছমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, দুটি কেন্দ্রেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসানুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। হামলার শিকার হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. জাবেদ। 

এতে আধাঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। হাটহাজারীর ফতেপুর ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় বেশকিছু ব্যালট পেপার উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সকালে কুলালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লতিফপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ঘটনাটি ঘটে। পরিত্যক্ত ব্যালটে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটিতে আপেল প্রতীকের ওপর সিল মারা রয়েছে। 

এছাড়া প্রতিটি ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের সিল ও ভোটারের স্বাক্ষরের স্থানে আঙ্গুলের টিপ সই রয়েছে। ভোলার চরফ্যাশনে চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়নে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্বতন্ত্র প্রার্থী কবির হোসেনের অভিযোগ, প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেয়ার প্রতিবাদ করায় তার লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে তিনিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। 

মেহেরপুর গাংনীর ধানখোলা ইউনিয়নে ভোট চলাকালে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে দুজনকে। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এক কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, নৌকার সিল মারা ১৩৪টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। 

বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ছোটলেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। গুজিয়াম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ৎ কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটে।

নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে বরিশালের মুলাদী ও বাবুগঞ্জে ৯ জনকে আটক করা হ?য়। এছাড়া আরও একজন?কে সাত দিনের কারাদণ্ড দেয়া হ?য়। ব?রিশা?লের অতি?রিক্ত পু?লিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শাহাজাহান ও অতিরিক্ত পু?লিশ সুপার (হেড? কোয়ার্টার) ফরহাদ সরদার জানান, মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়ন প?রিষদ নির্বাচনে ব?হিরাগত তিনজন ও বাবুগঞ্জের রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বহিরাগত ছয়জনকে আটক করা হয়। বাবুগ?ঞ্জে আটক হওয়া এক যুবক?কে সাতদিনের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আলা?মিন (২৬) মুলাদী উপ?জেলার গাছুয়ার আলতাফ সরদা?রের ছেলে। 

গাইবান্ধা পলাশবাড়ীতে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তোফাজ্জল হোসেনের গালে থাপ্পড় মারার অভিযোগে হোসেনপুর ইউপি চেয়ারমান প্রার্থী আশরাফ মণ্ডলকে আটক করে পুলিশ। 

গতকাল দুপুরে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শিশুদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আশরাফ ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ। কেন্দ্রের পরিবেশ সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় এ নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে প্রার্থী আশরাফের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে পরিণত হয় এবং ওই প্রার্থী এএসআইয়ের গালে থাপ্পড় মারেন। এজন্য পুলিশ আশরাফকে আটক করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জাল ভোট দেয়ায় একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন (২৭)। তিনি টিঘর গ্রামের হিরা মিয়ার ছেলে। 

জানা গেছে, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী লায়েছ মিয়ার তালা প্রতীকে জাল ভোট দিতে আসেন আলাউদ্দিন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন।  ফেনীর ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর মন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করায় চার মেম্বার প্রার্থীসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এ দিন সকাল ১১টার দিকে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক বোমাবাজি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়ে তাদের আটক করা হয়। 

আটকরা হলেন— মোরগ প্রতীক আবুল কালাম মাস্টার ও সমর্থক মো. সেলিম, আপেল প্রতীক শওকত জোবায়ের তুমুল ও ফুটবল প্রতীকের সোহেল রানা। নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা তৈরির দায়ে তাদের আটক করা হয়। নৌকায় ‘ওপেন ভোট’ কাটেন প্রিজাইডিং অফিসারের বাপ আমি, এভাবেই প্রিজাইডিং অফিসার আবুল খায়েরকে নৌকায় ওপেন ভোট নেয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান সওদাগরের বিরুদ্ধে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুর।  তিনি নৌকা প্রতীকে ওপেন ভোট নেয়ার জন্য কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবুল খায়েরকে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ওই কর্মকর্তাকে হুমকি দেন তিনি। এ নিয়ে কেন্দ্রে হট্টগোল শুরু হলে পুলিশ এসে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

প্রিজাইডিং অফিসার আবুল খায়ের বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী এসে ওপেন ভোট নিতে আমাকে চাপ দেন। আমি রাজি না হলে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারের বাপ আমি। 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় কেন্দ্র দখল ও জোর করে নৌকায় ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নৌকা প্রতীকে সিল মারায় ৩৭টি ব্যালট পেপার বাতিল করা হয়। চন্ডিপুর ইউনিয়নের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ভোট শুরুর পর আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা জোর করে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং নৌকায় সিল দিতে শুরু করেন। 

এসময় দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার সিলকৃত ভোট বাতিল করেন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সাদীপুর ইউনিয়নের নানাখী দারুস সুন্নাত হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় প্রিজাইডিং অফিসারকে নিজ কক্ষে দরজা বন্ধ করে বসে থাকতে দেখা যায়। 

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা মিতরা পালড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ উঠে। তারা জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসন ভোট নেয়া স্থগিত করে দেয়। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সঠিক সময়ে ব্যালট পেপার না আসায় তিন ঘণ্টা পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কুর্শি ইউনিয়নের গহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। 

সঠিক সময়ে ভোট শুরু না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় ভোটাররা। তৈরি হয় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। সঠিক সময়ে ভোট না দিতে পেরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন ভোটাররা। জানা যায়, সকাল ৮টা থেকেই ভোটারদের লাইনে দাঁড় করানো হয়। দুইজন ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশের পর দায়িত্বপ্রাপ্তরা দেখতে পান এখানে চেয়ারম্যান পদের ব্যালট নেই। এজন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হলে ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নির্মলেন্দু জোয়ারদার ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ভোটগ্রহণের আশ্বাস দেন। 

এর প্রায় কিন্তু তিন ঘণ্টা পর বেলা ১১টায় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছে ও তখন থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গত শনিবার মধ্য রাতে উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের মধ্য ভাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন মিন্টু হাজির বাড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযানে এ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় ৩১ জনকে আটক করা হয়। 

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে— একটি এলজি, চারটি চাপাতি, একটি ছুরি, ককটেল ও দেশীয় তৈরি অস্ত্র। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এলজি ও দেশীয় তৈরি অস্ত্রসহ ৩১ জনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা করতে অগ্রিম প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। 

তবে মুখোমুখি সংঘর্ষ, জাল ভোটপ্রয়োগ ও কেন্দ্র দখল, প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতসহ নানামুখী ঘটনার মধ্যেও গতকাল তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। সকল শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ সকাল থেকেই নিজ নিজ ভোট প্রয়োগ করেন। সকাল থেকে দেখা যায়, বুথগুলোর সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন তারা।