Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

২৭ হাজার রুশ সেনা হত্যার দাবি ইউক্রেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১৩, ২০২২, ১১:৫৪ পিএম


২৭ হাজার রুশ সেনা হত্যার দাবি ইউক্রেনের
ফাইল ছবি

রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ২০০টি যুদ্ধবিমান ছাড়াও ৪০৫টি হেলিকপ্টার, এক হাজার ২০৫টি ট্যাংকসহ দুই হাজার ৯০০টি সাঁজোয়া যুদ্ধযান গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে দেশটি।

শুক্রবার (১৩ মে) ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এক ফেসবুক পোস্টে রাশিয়ার বিশাল এই ক্ষতিসাধনের দাবি করেছেন।

ইউক্রেনীয় সেনার ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৫৪২টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ছাড়াও ১৯৩টি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, দুই হাজার ৯০০টি যুদ্ধযান, এক হাজার ২০৫টি ট্যাংক ও ৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

সেই সঙ্গে দুই হাজার ২৪২টি অন্যান্য যুদ্ধযান, তেলবাহী ট্যাংক ও বোট ছাড়াও ৪১টি বিশেষ যুদ্ধের সরঞ্জাম ও ৪০৫টি মানববিহীন যান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ইউক্রেনীয় সৈন্যদলের ওই কর্মকর্তা।

শুক্রবার ৭৮তম দিনে গড়িয়েছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। দুই দেশের মধ্যে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার ২৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও প্রায় তিন হাজার ১৮২ জন। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এর চেয়ে আরও অনেক বেশি বলে এক বিবৃতিতে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

এদিকে, ইউক্রেনের সেনাদলকে রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সহায়তার অংশ হিসেবে সম্প্রতি আরও ৩৩ বিলিয়ন ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিপুল এ অনুদানের ৯০ শতাংশই ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা প্রেরণে ব্যয় করতে ইচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তা হিসেবে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করতে চান প্রেসিডেন্ট বাইডেন। আর সরাসরি অর্থ সহায়তা হিসেবে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার এবং মানবিক সহায়তার জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে বাইডেন প্রশাসন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা ও সমালোচনার জেরে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছে রাশিয়া জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রম। এর পরপরই দেশদুটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে- গ্যাস ইস্যুতে মস্কো ব্লাকমেইল করার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার এমন পদক্ষেপ পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ভাঙন ধরানোর একটি অপচেষ্টা বলেও দাবি করেছে তারা।

তথ্যসূত্র: ইউক্রেইনফর্ম, ইয়ানি শাফাক।