আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ৯, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। হামলা শুরুর পরপরই একজন উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে মার্কিন বাহিনী তাদের সরাসরি সহায়তা করেছে।
তবে পরে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিশ্চিত করেছে, সর্বশেষ হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্র কোনো ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি। সংঘাতের এই নতুন পর্যায়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় ওয়াশিংটনের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দিকে তেহরানের ছুড়ে দেওয়া কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিহত করেনি বলে সিএনএনকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তার আগের সেই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত ও সত্য তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে এলো।
মার্কিন ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ এই রক্তক্ষয়ী হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ইরানের ছোড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই মার্কিন বিমান বা নৌবাহিনী প্রতিহত করেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নতুন এক পরিস্থিতি সামনে এনেছে। কারণ এর আগে যখনই ইরান ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তেল আবিবকে রক্ষায় সরাসরি ঢাল হিসেবে কাজ করেছিল।
তবে মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর সরাসরি কোনো অংশগ্রহণ না থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে অন্তত দুইবার জরুরি ফোনালাপে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা সত্ত্বেও গত রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের চালানো আকস্মিক বোমা হামলাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে যায়। এরপরই এর মোক্ষম জবাব দিতে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরে ইসরায়েলও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বিভিন্ন স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক দফা বিমান হামলা চালায়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই মূলত গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলার জবাবে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার পাশাপাশি এই অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সামরিক স্থাপনা বা ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের বিরুদ্ধেও পাল্টা কঠোর হামলা চালায় ইরান।
পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে এর স্থায়ী বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে তীব্র মতবিরোধের কারণে পরবর্তীতে দুই দেশের আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও চলমান এই ভয়াবহ সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও ব্যাকস্টেজে চলমান রয়েছে।
এএন