ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

ইসরায়েলি সতর্কতার পর লেবাননের টায়ার শহর ছাড়ছেন বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ৯, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

ইসরায়েলি সতর্কতার পর লেবাননের টায়ার শহর ছাড়ছেন বাসিন্দারা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক বন্দর নগরী টায়ার  থেকে ব্যাপক সংখ্যায় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে শুরু করেছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নতুন করে দেওয়া জরুরি উচ্ছেদ আদেশের পর শহরটিতে এই মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। 

এর ঠিক এক দিন আগেই ইরান লেবাননে সব ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে সেই আহ্বানকে উপেক্ষা করে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে আজ সকালের হামলায় অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং যুদ্ধবিরতির সমস্ত সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ শহর টায়ারের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সামরিক মুখপাত্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাসিন্দাদের যেন দ্রুত ‘জাহরানি নদীর’ উত্তর দিকে চলে যাওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গাড়ি এবং মোটরসাইকেলে চাপিয়ে শহর ছাড়ছেন। মুহূর্তের মধ্যে ব্যস্ত শহরটি এক ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। রাস্তাগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে কারণ সবাই একসাথে শহর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন।

লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে এই অঞ্চলে বড় ধরনের বিমান বা স্থল অভিযান চালাতে পারে- এমন আশঙ্কায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিমান হামলায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি

উচ্ছেদ আদেশের সমান্তরালেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় আজ সকালে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। লেবাননের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ সকালের এই ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে চিকিৎসকদের মতে, ওষুধের ঘাটতি এবং হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী চলে আসায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হামলার ফলে বেশ কিছু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কিনা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

খ্রিস্টান কোয়ার্টারে উচ্ছেদ আদেশ

বিবিসি-র আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন এই উচ্ছেদ আদেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল সাধারণত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে সতর্কতা জারি করত, কারণ ওইসব এলাকায় হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এবারই প্রথম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী টায়ার শহরের ঐতিহাসিক 'খ্রিস্টান কোয়ার্টার -কে উচ্ছেদ আদেশের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়। এর অর্থ হলো, ইসরায়েল এখন আর কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করছে না, বরং সমগ্র শহরের ওপরই তাদের সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে। এটি লেবাননের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বেসামরিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় ধাক্কা।

খ্রিস্টান কোয়ার্টারের বাসিন্দারা এতদিন নিজেদের তুলনামূলক নিরাপদ মনে করছিলেন, তবে এই নতুন আদেশের পর তারাও এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

ইরান-ইসরায়েল সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং কূটনীতি

এই হামলার ঠিক এক দিন আগে, অর্থাৎ গত সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনার পারদ কিছুটা নেমেছিল বলে মনে করা হয়েছিল। গত এপ্রিল মাসের পর এই প্রথম ইরান এবং ইসরায়েল সরাসরি একে অপরের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির পর, গত সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে একটি কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তেহরান জানিয়েছিল যে, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত বা 'পজ'  করতে প্রস্তুত, তবে এর জন্য একটি প্রধান শর্ত রয়েছে। শর্তটি হলো- ইসরায়েলকে অবশ্যই লেবাননের মাটিতে তাদের সমস্ত আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে।

কিন্তু ইসরায়েল ইরানের এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ লেবাননে তাদের হামলা আরও জোরদার করেছে।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও ইসরায়েলের অবস্থান

ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা লেবাননের সাধারণ জনগণের ওপর হামলা চালাচ্ছে না, বরং তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ।

ইসরায়েলের সামরিক কমান্ডারদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা অনানুষ্ঠানিক সমস্ত যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ ক্রমাগত রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে বলে তেল আবিব দাবি করে। 

ইসরায়েলের স্পষ্ট বক্তব্য, যতক্ষণ না হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল হচ্ছে এবং ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারছেন, ততক্ষণ লেবাননে এই সামরিক অভিযান থামবে না।

মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

টায়ার শহর থেকে এই গণ-উচ্ছেদ লেবাননের চলমান অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছে।

বৈরুত এবং লেবাননের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ইতিমধ্যে দক্ষিণ থেকে আসা লাখ লাখ শরণার্থীর চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন করে টায়ার শহর খালি হওয়ার ফলে এই আবাসন ও খাদ্য সংকট আরও তীব্র হবে।

লেবাননের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা এমনিতেই ভঙ্গুর। তার ওপর প্রতিদিনের বিমান হামলায় আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলো ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভুগছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘ বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংঘাত থামানোর চেষ্টা করলেও ইসরায়েল তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে অবিচল রয়েছে।

লেবাননের টায়ার শহরে ইসরায়েলের এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে এক নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে। ইরানের শান্তির প্রস্তাব বা শর্তকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের এই সর্বাত্মক হামলা প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলে অদূর ভবিষ্যতে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। 

টায়ারের খ্রিস্টান কোয়ার্টারসহ পুরো শহরের বাসিন্দাদের এই উচ্ছেদ লেবাননের ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল যদি দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এএন

Link copied!