মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রজব আলীকে কলাবাগান থেকে গ্রেফতার

মো. মাসুম বিল্লাহ প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২২, ০৪:৪৬ পিএম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রজব আলীকে কলাবাগান থেকে গ্রেফতার

কে এম আমিনুল হক ওরফে রজব আলীকে (৬৯) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন তিনি।  

সবশেষ শনিবার (২ জুলাই) তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন রজব আলী। কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ এলাকায় নিরীহ মানুষ হত্যায় জড়িত তিনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণহত্যা, নির্যাতনসহ মনবতাবিরোধী অপরাধ করেন রজব আলী।

তিনি ভৈরবে একটি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় পাকিস্তানি ইসলামি ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে গিয়ে নেন অস্ত্রের প্রশিক্ষণ। এরপর পাকিস্তান বাহিনীকে সহায়তার জন্য গঠন করেন ‘আলবদর’ বাহিনী। তখন তিনি এই বাহিনীর কিশোরগঞ্জ জেলার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রোববার (৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমিনুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। এর এক বছর পর ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দাখিল কর হয় তদন্ত প্রতিবেদন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৮ মে ট্রাইব্যুনাল রজব আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর রজব আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পলাতক থাকায় এই আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে রাজধানীর কলাবাগানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় রজব আলী পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে হবিগঞ্জ জেলার কৃষ্ণপুর, গদাইনগর ও চন্ডিপুর গ্রাম এবং কিশোরগঞ্জ জেলার সদানগর ও সাবিয়ানগর গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার ফান্দাউক এলাকায় গণহত্যা, লুটপাট, লুণ্ঠন ও নির্যাতন করেন।

১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন রজব আলী। ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে অষ্টগ্রাম থানায় দালাল আইনে তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলোতে তার সাজা হয় ৪০ বছরের। কিন্তু রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় মাত্র ১০ বছর সাজা ভোগ করে ১৯৮১ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার আমিনুল ১৯৮২ সালে জেল থেকে বের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে ও বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকবার পাকিস্তান গমন করে। ১৯৯৭ সালে তিনি চলে আসেন ঢাকায়। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

এবি