অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (এএইউবি) এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) উদ্যাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিবসের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেন মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী ভাষা শহিদদের এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহিদদের, যাঁদের আত্মদানের বিনিময়ে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তিনি আরও স্মরণ করেন জুলাই-আগস্টের সেই শোকাবহ মুহূর্তগুলো, অকুতোভয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা, যাঁরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্মমতার শিকার হয়েছেন। তাঁদের অনেকে শহিদ হয়েছেন কিন্তু তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের চেতনায় অমর হয়ে থাকবে।
এরপর তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের জাতীয় গর্বের প্রতীক, যেখানে গড়ে উঠছে আগামী দিনের বিমান প্রকৌশলী, গবেষক ও মহাকাশ বিজ্ঞানী। মাননীয় বিমানবাহিনী প্রধান অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্জন এর বিষয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সর্বশেষে তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের আধুনিক জ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কেবল জাতীয় পর্যায়ে নয় বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অ্যাভিয়েশন শিল্পের জন্য দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ভাইস চ্যান্সেলর এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে এম মনিরুল বাহার, ওএসপি, বিএসপি, এনডিসি, এইচডিএমসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এডিডব্লিউসি ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান।
তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থী-জনতার মননকে ধারণ করে অত্র বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণামুখী এবং উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করবে না, বরং নতুন নতুন ধারণা সৃষ্টি এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করবে। তিনি আরও বলেন যে আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সংকল্প বাস্তবায়নে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একের পর এক সম্মানজনক সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে প্রমাণ করছে যে তারা শুধু স্বপ্ন দেখে না, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেও সক্ষম। এজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভ কামনা জানান। সবশেষে তিনি মাননীয় বিমান বাহিনী প্রধানসহ সকল সম্মানিত অতিথিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
দিবসটি উপলক্ষ্যে অত্র বিশ্ববিদ্যালয় হতে অ্যাভিয়েশন এবং স্পেস সম্পর্কিত একটি ম্যাগাজিন "Space & Beyond" প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানসমূহে বিমান বাহিনীর পিএসও, এয়ার অধিনায়ক বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণসহ এএইউবি পরিবারের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দরে স্বল্প পরিসরে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ০৩ জুলাই ২০২২ তারিখে লালমনিরহাট ক্যাম্পাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বিআরইউ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন