আলী রীয়াজ

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৯:৫২ পিএম
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন না হলে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

শনিবার বিকেলে দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমি বারবার আহ্বান জানিয়েছি। তারা সাড়া দিয়েছে, তবে কোনো না কোনো সময় প্রক্রিয়াটার শেষ টানতে হবে। এটা অনিঃশেষ প্রক্রিয়া হতে পারে না। সে কারণে নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশে শুধু অস্থিতিশীলতা নয়, জাতীয় নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচন কেবল ক্ষমতায় কারা যাবে, তা নির্ধারণের জন্য নয়; বরং রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৬ বছরের সংকট আসলে কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তাই এবার কাঠামোগত পরিবর্তন না এলে নির্বাচনের মাধ্যমে মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে না।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি বলেন, “আমরা একটি কনসলিডেটেড ডেমোক্রেসি চাই। ১৯৭৩, ১৯৯১ ও ২০০৯ সালে তিন দফা চেষ্টা করেও সেটা হয়নি। এবার যদি কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য না হয়, তাহলে ভবিষ্যতের নির্বাচনও কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবে না।”

তিনি জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি। ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল সংবিধান, শাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশসহ নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, বাকি ২০টির মধ্যে ১১টিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও আলোচনায় দলগুলো সহিষ্ণু থেকেছে, যা ইতিবাচক দিক।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো ছয়টি সম্ভাব্য পথ প্রস্তাব করেছে। বিশেষজ্ঞরা দুটো পথের কথা বলেছেন। সংবিধানের বাইরে যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন, সেখানে সবার ঐক্যমত আছে। তবে সংবিধানসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ভিন্নমত রয়ে গেছে। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জবাবদিহি ও নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত করা। জনগণের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— আমরা আরেকটি শেখ হাসিনা চাই না।”

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

এছাড়া অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা।

ইএইচ