রাজধানীর সড়কে তীব্র যানবাহন সংকট, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ১২:৪৫ পিএম
রাজধানীর সড়কে তীব্র যানবাহন সংকট, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণার প্রভাব রাজধানীর সড়কে দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা, গণপরিবহন সীমিত, আর ব্যক্তিগত গাড়ি ও রাইডশেয়ারিং যানও চোখে পড়ার মতো কম। 

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কায় সাধারণ মানুষ, অফিসগামী কর্মী এবং শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সকাল থেকেই ফার্মগেট, শাহবাগ, মতিঝিল, গুলিস্তান, মগবাজার, সায়েন্সল্যাব, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা সব এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও বাস নেই, কোথাও দীর্ঘ যাত্রী সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কেউ কেউ যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন। যারা রাস্তায় নেমেছেন, তাদের অনেকেই সিএনজি বা মোটরবাইকের দ্বিগুণ ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবহন মালিকরা জানিয়েছেন, চালক ও হেলপাররা সম্ভাব্য সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের আশঙ্কায় গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে রাজধানীর মধ্যে এবং আন্তঃজেলায় যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গুলিস্তান, ফার্মগেট, কাকরাইল, শাহবাগ ও কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে সড়কে মূলত চলাচল করছে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল, ভারী যানবাহন, ট্রাক বা বাসের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম।

রাজধানীর ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “আজ মূল সমস্যা যানজট নয়, বরং গাড়ির অভাব। সাধারণ দিনের তুলনায় আজ অন্তত ৬০ শতাংশ কম গণপরিবহন রাস্তায় নেমেছে।” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল অর্ধেকের নিচে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যানবাহন সংকটে সারাদিন নগরবাসীকে পায়ে হেঁটেই চলতে দেখা গেছে। পরিবহন মালিক সমিতির এক নেতা জানান, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বাস রাস্তায় নামানো ঝুঁকিপূর্ণ। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধস দীর্ঘমেয়াদে নগরজীবনে স্থবিরতা সৃষ্টি করছে এবং শহরের অর্থনীতি ও কর্মজীবী মানুষের উৎপাদনশীলতায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

ইএইচ