মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা-কামালকে ফেরত পাঠাতে ঢাকার তৎপরতা জোরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৭:০২ পিএম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা-কামালকে ফেরত পাঠাতে ঢাকার তৎপরতা জোরদার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর পলাতক দুই দণ্ডপ্রাপ্তকে দেশে ফেরাতে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দণ্ডিত হওয়ার পর ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত জোরদার হয়েছে। 

সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতকে অবশ্যই চিঠি যাবে। আজ রাতেই বা সর্বোচ্চ মঙ্গলবার সকালে পাঠানো হবে।

তাকে প্রশ্ন করা হয়, ভারত যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না জানায়, সরকার কী করবে? উত্তরে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, এই মুহূর্তে সে বিষয়ে মন্তব্য করছি না।

এদিকে নিরাপত্তা উপদেষ্টার সম্ভাব্য দিল্লি সফরে দণ্ডিত দুইজনকে ফেরত আনার প্রসঙ্গ তোলা হবে কি না এ প্রশ্নও তিনি এড়িয়ে যান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিটির রায়ে শেখ হাসিনা ও কামাল ‘জুলাই হত্যাযজ্ঞের’ প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। 

বিবৃতিতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের অন্য দেশে আশ্রয় দেওয়া 'অবন্ধুসুলভ আচরণ' এবং 'ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা' হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যার্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে দ্রুততম সময়ে এই দুই পলাতক দণ্ডিতকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে হবে এটি 'চুক্তিগত দায়বদ্ধতা' বলেও দাবি করেছে ঢাকা।

দুপুরে সচিবালয়ে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠানো হবে। যদি তারা এই গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দিয়ে যায়, ভারতকে বুঝতে হবে এটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক একটি আচরণ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার বিকেলে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় উপস্থাপন করে।

শেখ হাসিনা: মৃত্যুদণ্ড (অভিযোগ–২), আমৃত্যু কারাদণ্ড (অভিযোগ–১), আসাদুজ্জামান খান কামাল: মৃত্যুদণ্ড, সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুন: ৫ বছর কারাদণ্ড (রাজসাক্ষী হওয়ায়)।

রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ভারত–বাংলাদেশ কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর দিল্লির দিকে চিঠি পাঠানোর পর ভারত কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই নির্ধারণ করবে পরবর্তী ধাপ।