মা-মেয়ে হত্যা: সুইচ গিয়ার ও ছুরি ছিল চুরি করা, আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৯:০২ পিএম
 মা-মেয়ে হত্যা: সুইচ গিয়ার ও ছুরি ছিল চুরি করা, আদালতে স্বীকারোক্তি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা ও মেয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত সুইচ গিয়ারটিও ছিল চুরি করা। এই ঘটনার আগে ঘাতক গৃহকর্মী আয়েশা একইভাবে অন্য একটি বাসা থেকে চাকুটি চুরি করেছিল বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

গত ৮ ডিসেম্বর সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় কুপিয়ে লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার নবম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

ঘটনার দুই দিন পর ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় আয়েশার স্বামী জামাল শিকদার ওরফে রাব্বি শিকদারের দাদাবাড়ি থেকে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতে তোলা হলে গৃহকর্মী আয়েশার ৬ দিন ও তার স্বামী রাব্বি শিকদারের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ড শেষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা-পরবর্তী সময়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আয়েশা। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অপরদিকে আদালতে রাব্বি দাবি করেছে, সে জানত তার স্ত্রী আয়েশা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী। কিন্তু মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার পর রাব্বি প্রথমবার জানতে পারে, তার স্ত্রী গৃহকর্মীর কাজ করে।

রাব্বি পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী এবং হেমায়েতপুর এলাকায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তার কাজ করত। সে আদালতকে আরও বলেছে, হত্যার দিন সে ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি দেখেছে। কিন্তু এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তার স্ত্রী জড়িত এটা জেনেই সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার সময়ে ধস্তাধস্তিতে স্ত্রী আয়েশার হাত কেটে যায়। কাটা হাত নিয়ে বাসায় যাওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত জেনে প্রথমে তার হাতের চিকিৎসা করান রাব্বি। পরবর্তী সময়ে স্ত্রীকে নিয়ে সদরঘাট চলে আসেন। এই এলাকায় এসে স্ত্রী আয়েশার চুরি করে আনা একটি ল্যাপটপ পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে বরিশাল যান। সেখান থেকে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় দাদাবাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

ইএইচ