রাজধানীতে নারী পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
রাজধানীতে নারী পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিয়া সুলতানা (২৮) নামে এক নারী পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ১০টার দিকে দক্ষিণখান থানাধীন মোল্লারটেক এলাকার একটি বাসায় ঘটনাটি ঘটে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিয়া সুলতানাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ শুক্রবার দুপুরে ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

রাজিয়া সুলতানা বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামের মো. নাসির উদ্দিন বাচ্চুর মেয়ে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ‘নায়েক’ পদে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) হেডকোয়ার্টারে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজিয়া দক্ষিণখান মোল্লারটেক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। 

তার স্বামী রাজীব মিয়া একজন পুলিশ কনস্টেবল। তিনি বর্তমানে ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়েতে কর্মরত। রাজীব মিয়ার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায়।

দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে পারিবারিক কলহের জেরে রাজিয়া সুলতানা আত্মহত্যা করেছেন। 

রাজিয়ার স্বামীর দাবি, বৃহস্পতিবার রাজিয়া তার ব্যবহৃত আইফোন-১২ প্রো ম্যাক্স ভেঙে ফেলেন। এর আগেও তিনি একটি ভিভো মোবাইল ফোন ভেঙেছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এরই জেরে রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে তিনি নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দেন। এর কিছুক্ষণ পর রাজীব মিয়া তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

রাজীব মিয়ার বন্ধু ও সহকর্মী শামীম আল মাহীন জানান, পুলিশে যোগদানের প্রশিক্ষণকালেই রাজীব ও রাজিয়ার পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁরা বিয়ে করেন। তাদের ঘরে ১৯ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। কর্মস্থলের কারণে রাজিয়া ঢাকায় থাকলেও রাজীব ভাঙ্গায় দায়িত্ব পালন করতেন। এ ঘটনায় তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ হলেন, দক্ষিণখান থানার এসআই পলাশ আহমেদ ও তার সহযোগী ফোর্স।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইএইচ