প্রেস সচিব

কিছু শর্ত পূরণ হলে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগ দেবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
কিছু শর্ত পূরণ হলে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগ দেবে বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনের গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করছে। 

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানিয়েছেন।

শফিকুল আলম বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশ অবিলম্বে হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে 'ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স' (আইএসএফ) গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, মুসলিম দেশগুলোর যৌথ সুপারিশে এবং নিরাপত্তা পরিষদের সব মুসলিম সদস্য দেশের সম্মতিতে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ এই বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে আইএসএফে যোগ দিতে আগ্রহী।

প্রেস সচিবের মতে, শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আইএসএফকে অবশ্যই অস্থায়ী হতে হবে এবং এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত হতে হবে। 

এছাড়া গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকতে হবে এবং গাজা থেকে সকল ইসরায়েলি সেনাকে সরিয়ে নিতে হবে। একই সাথে গাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনিদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

শফিকুল আলম আরও জানান, ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী আল কুদস আল শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন থাকবে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

ইএইচ