শীতের সকালের হিমেল হাওয়ায় যখন চারপাশ আচ্ছন্ন, তখনই ভাপা আর চিতই পিঠার গরম ভাপ আর নলেন গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠল চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)।
বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত ‘পিঠা মেলা’। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মব্যস্ততার মাঝে এমন আয়োজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে এক মিলনমেলার আবহাওয়া তৈরি করে।
অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য পিঠা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম।
ফিতা কেটে উৎসবের সূচনা করার সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের পরিচালক, উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনকালে মহাপরিচালক খালেদা বেগম বলেন, “বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো শীতের পিঠা। দাপ্তরিক কাজের ব্যস্ততার মাঝে আমাদের এ আয়োজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করবে এবং কর্মস্পৃহা বাড়িয়ে দেবে।”

মেলার মূল আকর্ষণ ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী হরেক রকমের পিঠা। আয়োজনের মূল সুর যেন ধ্বনিত হচ্ছিল এ স্লোগানে পিঠার ধোঁয়ায় উষ্ণ মন, মিষ্টি গন্ধে ভরে তখন; একটা নয় দুটো নয়, পিঠা কেড়েছে হৃদয় জয়। এ চমৎকার ও নান্দনিক ছন্দের আবহে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। স্টলগুলোতে সাজানো ছিল ভাপা, চিতই, দুধ পুলি, পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, মুগ পাকনসহ আরও অনেক অচেনা ও বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ পিঠার সমাহার। প্রতিটি পিঠার স্বাদ যেন শৈশবের শীতের সকালকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল।
পুরো মেলাটি মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় ও অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তবে এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি রূপ নিয়েছিল অধিদপ্তরের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এক অকৃত্রিম মিলনমেলায়। সিনিয়র অফিসার থেকে শুরু করে পিয়ন, সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন এবং হাসি ও ঠাট্টায় মেতে ওঠেন।
পিঠা মেলায় অংশ নেওয়া এক কর্মচারী আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “অফিস মানেই কেবল ফাইলের স্তূপ আর কাজের চাপ। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আমরা সবাই একটি পরিবারের সদস্য। পিঠার গন্ধে অফিসের পরিবেশটাই বদলে গেছে।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারে নিরলস কাজ করে যায়। নিজেরাও সেই ঐতিহ্যের ধারক হয়ে শীতের এ সকালে পিঠা উৎসবের আয়োজন করে তারা প্রমাণ করল যে, শেকড়কে ভুলে যাওয়া বাঙালির পক্ষে অসম্ভব। দুপুর গড়িয়ে গেলেও মেলার আনন্দ কমেনি। একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় এবং পিঠার স্বাদ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে দিনটি একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে অধিদপ্তরের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে রইল।
উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রতি বছরই যেন এমন আয়োজনের মাধ্যমে কাজের ক্লান্তি দূর করে সবাই এক সুতোয় বাঁধা পড়তে পারেন। শীতের রিক্ততা ছাপিয়ে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের এ পিঠা মেলা যেন হয়ে উঠেছিল প্রাণের স্পন্দন, যেখানে সংস্কৃতি আর ভ্রাতৃত্ব মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।
এ সময় অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন