রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শুরু করেছে সাঁড়াশি অভিযান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২। এ বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্যমতে, গত এক দিনে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে শাহবাগ থানা এলাকায়। সেখান থেকে একযোগে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন, মো. রমজান, কাউছার আহম্মেদ, মো. আলম সরদার, মো. আইউব আলী, মিজানুর রহমান, মো. শাহদাত, এমসার ইউনুছ, মাইখেল চন্দ্র, আলী আহম্মেদ, ইয়াহিয়া ফেরদৌস হিটলার, লিমন, মো. করিম মিয়া, মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মো. রমজান আলী।
পুলিশের ধারণা, এ এলাকায় বিশেষ কোনো অপরাধী চক্র সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল, যা সময়মতো নসাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
রাজধানীর অন্যান্য প্রান্তেও অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অত্যন্ত কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়েছে। খিলগাঁও ও যাত্রাবাড়ী এ দুই এলাকায় ডিএমপির বিশেষ টিম ৪ জন করে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ইফতেখার রেজা, মামুন, রাজিব ও শাওন ওরফে সেন্টু।
খিলগাঁও থানা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন তাজবিন খান, শরিফুল ইসলাম, মো. ফারুক ও শরিফুল ইসলাম। হাজারীবাগ ও শেরেবাংলা নগর এ দুই এলাকা থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এ বি এম মাহমুদুল বসরি, মো. জয়নাল হাওলাদার ও মো. সেলিমকে। হাজারীবাগ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন সুফল চৌধুরী, মো. মুন্না ও মেহেদী হাসান।
লালবাগ এলাকা থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন শাহীন বাপ্পী শামীম ওরফে সেলিম এবং আমির হোসেন। এ ছাড়া কোতোয়ালি থেকে সাব্বির হোসেন, ডেমরা থেকে আক্তার হোসেন, সূত্রাপুর থেকে মনা ব্যাপারী, মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মো. হাফিজুল ইসলাম এবং বাড্ডা এলাকা থেকে মো. সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, মাদক এবং অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ দমনে ডিএমপির এ বিশেষ অভিযান এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের আস্তানাগুলো শনাক্ত করে ফেজ-২ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এ অভিযানের ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসছে। বিশেষ করে রাতের ঢাকা নিরাপদ রাখতে এ অভিযান আরও কয়েক দিন চলবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ৩৫ জনের বিরুদ্ধেই সংশ্লিষ্ট থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাদের সাথে আর কোনো প্রভাবশালী চক্র বা গডফাদারের যোগাযোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এখন ডিএমপির প্রধান অস্ত্র। মহানগরের প্রতিটি অলিতে-গলিতে অপরাধীদের আনাগোনা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন