রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তার মা পারভীন আক্তার। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পারভীন আক্তার বলেন, তিনি রামিসাকে দাঁত ব্রাশ করে মুখ ধুয়ে স্কুল ড্রেস পরার জন্য বলেছিলেন। এরপর রামিসা পাশের ঘরে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে যায়।
তিনি আরও জানান, ওই সময় রামিসার বড় বোন চাচার বাসার দিকে যাচ্ছিল। বড় বোনের পেছনে যেতে চাইলে রামিসাকে বাসায় থাকতে বলা হয়। তখন রামিসা দরজার কাছেই ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সময় একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন, আরেকটি পাওয়া যায়নি বলেও জানান পারভীন আক্তার। তিনি বলেন, পরে দেখতে পান বড় বোন একাই চাচার বাসা থেকে ফিরে আসছে। তখন তার সন্দেহ হয়। এর আগেই তিনি একটি চিৎকার শুনেছিলেন, কিন্তু সেটি যে রামিসার ছিল তা বুঝতে পারেননি। তিনি ভেবেছিলেন পাশের ফ্ল্যাটের কোনো শিশুর আওয়াজ।
পরে সন্দেহ হওয়ায় তিনি বারবার দরজায় ধাক্কা দেন, তবে কেউ দরজা খোলেনি।
পারভীন আক্তার আরও জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো ঘনিষ্ঠ পরিচয় বা নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন