নোয়াখালীতে শোক দিবসে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২২, ০৮:৫৫ পিএম
নোয়াখালীতে শোক দিবসে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে লিপ্ত উভয়পক্ষই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী।

আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় উপজেলার সরকারী মুজিব কলেজ গেইট এলাকায় চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন সোহাগের পক্ষ এবং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রোমন চৌধুরী ও ছাত্রলীগ সভাপতি ফখরুল ইসলাম রাজুর পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন চরহাজারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রাজু (২৫), সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেফায়েত উল্যাহ সোহান (২৫), যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নান (২৮), আলা উদ্দিন (৩৬), হাসান আলী রাজু (৪২), সাহিন (৩২), ঝন্টু হাজারী (৫০), মোঃ মোস্তফা (২৮), মো. শিপন (৩০), মিজানসহ (৩১) কমপক্ষে ১৫ জন। গুরুতর আহত ঝন্টু হাজারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় শোক দিবস বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ গেইটে আ্ওয়ামী লীগের ওই দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পাঁচজন আহত হয়। শোক দিবসের কর্মসূচি শেষে যাওয়ার পথে একই স্থান আবারও সংঘর্ষের ঘটনায় যুবলীগ নেতা ঝন্টু হাজারীসহ কয়েকজন আহতের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে চরহাজারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, চরহাজারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদার লোকজন বিনা উস্কানিতে এ ধরনের হামলা করে তার লোকজনকে আহত করেছে।

আহত হাসান আলী রাজুর স্ত্রী, চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য কামরুন নাহার বলেন, তার স্বামী রাজুকে আহত করার পর তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তিনি। দুপুরে যুবলীগ নেতা মিজান, শিপন ও রোমন চৌধুরীর নেতৃত্বে তার বাড়ির সামনে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানান তিনি।  

অপরদিকে চরহাজারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রাজু অভিযোগ করে বলেন, তারা বসুরহাট পৌরসভায় আয়োজিত শোক দিবসের কর্মসূচিতে আসছিলেন। এ সময় তাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেন চরহাজারী ইউপি চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন সোহাগ ও তার লোকজন।

তিনি আরও বলেন, বিকেলে চেয়ারম্যান সোহাগের নির্দেশে তার বাহিনী সদস্য ফাহিম, রিপাত ও আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে ২০-৩০ জন সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা আজহারুল ইসলাম কাজলের বাড়িতে হামলা, দরজা-জানালা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে জানিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

আজ বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময় বসুরহাটের আবু মাঝিরহাট ও শান্তিরহাট এলাকায় দুই পক্ষের লোকজনকে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা গিয়েছে। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কোম্পানীগঞ্জে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমারসংবাদ/এসএম