তাকিয়া বাড়ী জামে মসজিদ। প্রায় ২০০ বছর ধরে ঐতিহ্যের ধারক হয়ে আছে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের তাকিয়া বাড়ী জামে মসজিদ। অপরূপ সৌন্দর্য্যরে পুরাকীর্তিতে সাজানো রয়েছে এ মসজিদটি।
প্রাচীন আমলের বিভিন্ন কারুকার্যে সাজানো রয়েছে মসজিদের ভেতর ও বাইরের অংশ। মাঝে মাঝেই আরবি হরফের লেখা রয়েছে, যা বর্তমান সময়ে বিরল। সংস্কারের অভাবে এসব লেখার অনেক কিছুই এখন অস্পষ্ট হয়ে গেছে। মসজিদটি ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ প্রাচীন এই প্রত্নসম্পদ হিসেবে পরিচিত।
১৮২২ সালে সুফি আলিম উদ্দিন এখানে এই ৩ গম্বুজ বিশিস্ট তাকিয়াবাড়ী জামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। ইট-সুরকির তৈরি মসজিদ টি দক্ষিণ বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নসম্পদ। বর্গাকার এই মসজিদে ঢোকার জন্য ৩টি করে প্রবেশদ্বার আছে। মাঝের প্রবেশদ্বারগুলো অপেক্ষাকৃত বড়।
প্রাচীন এই মসজিদটিতে ২০২০ সালে সামান্য কিছু নিমার্ণ কাজ হলেও এরপর থেকে আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। প্রাচীন আমলের ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি সংস্কারের দাবি জানান স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, সামান্য সদিচ্ছা থাকলেই বহু বছরের পুরোনো এ মসজিদটি ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুদ্দিন রিফাত বলেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী পুরাতন মসজিদ। এ মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর দর্শনার্থীরা আসেন। কিন্তু বর্তমানের এটির অবস্থা খুবই নাজুক, নামাজের সময় ও পলেস্থারা খোসে গায় পড়ে। দ্রুত এটি সংস্কারের প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমরা মুল মসজিদের সামনের অংশে কিছু সংস্কার এর কাজ করেছি যা এখনও চলমান রয়েছে।
প্রায় ৭ বছর ধরে এ মসজিদে ইমামতি করছেন মাওলানা মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, ‘মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জ্বালানার গ্রিলে ও মরিচা ধরেছে। মসজিদের দেয়ালে আরবি হরফের লেখা গুলো ও এখন অস্পষ্ট। কিন্তু এটিকে সংস্কার করা হচ্ছে না। দ্রুত এটি সংস্কার করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকায় স্থানীয়দের পক্ষে সংস্কার করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছে থাকলেও এটি সংস্কারের হাত লাগাতে পারছি না। অন্যদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও এটি সংস্কারে উদ্যোগ নিচ্ছে না। পুরনো এই মসজিদটি টিকিয়ে রাখার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এআই
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন