হাসপাতালে রোগী ফেলে কক্সবাজারে ঘুরতে গেলেন ৭০ চিকিৎসক

যশোর প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২২, ১১:১৮ এএম
হাসপাতালে রোগী ফেলে কক্সবাজারে ঘুরতে গেলেন ৭০ চিকিৎসক

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও যশোর মেডিকেল কলেজে কর্মরত ১০৩ চিকিৎসকের মধ্যে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ৭০ জন ছুটি নিয়েছেন। তারা বর্তমানে সপরিবারে অবস্থান করছেন কক্সবাজারে। একযোগে হাসপাতালের ৭০ চিকিৎসক ছুটিতে যাওয়ায় হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র, সহকারী রেজিস্টার ও মেডিকেল অফিসার মিলে মোট ৭০ চিকিৎসক ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। এরমধ্যে খুলনা স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবারের জন্য ৩ দিনের ছুটি নিয়েছেন। আবাসিক মেডিকেল অফিসার সহ বাকি ৬৮ জন তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৯/২০জন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন।

ইন্টার্ন ও সেবিকা দিয়ে চলা হাসপাতালে একের পর এক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা গেছেন ১৬ জন। রোগী ভর্তির হারও নেমেছে অর্ধেকে। যারা ভর্তি আছেন, তাদের চিকিৎসা না দিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘ধমক’, অনেককে অন্য জায়গায় চিকিৎসা নিতে বলা হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র, সহকারী রেজিস্টার ও মেডিকেল অফিসার মিলে মোট ৭০ চিকিৎসক ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবারের জন্য ৩ দিনের ছুটি নিয়েছেন। আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ বাকি ৬৮ জন তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৯/২০জন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে ওই চিকিৎসকরা অফিস করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, একযোগে হাসপাতালের ৭০ চিকিৎসক ছুটিতে যাওয়ায় হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মেডিকেল কলেজের ২/ ১জন সিনিয়র ও ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং হাসপাতালের সেবিকাদের ওপর ভরদিয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভর্তি খাতা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন রোগে ৭৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিন হাসপাতালের ৪৭২ রোগী অবস্থান করছিলেন।

মডেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার আলী হোসেন জানান, সোমবার চিকিৎসক ওয়ার্ডে আসেননি। তবে মঙ্গলবার ডা. আহাদ আলী ওয়ার্ডে এসে সব রোগীকে বাড়িতে চলে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দেন। আমাকেও ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। প্রতিবাদ করায় ছাড়পত্র দেননি চিকিৎসক।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ আলী মোড়ল গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে চিকিৎসকরা বেড়াতে গিয়েছেন। কিন্তু কতজন গেছেন সে বিষয়ে বলতে পারবো না। বর্তমানে হাসপাতালে কোনো সমস্যা নেই। সঠিকভাবে সেবা কার্যক্রম চলছে। রোগীদের অভিযোগ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

এআই