সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জের এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী হাতে-পায়ে বুনা লুঙ্গি ও গামছার জন্য বিখ্যাত তাঁতশিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
এখানকার লুঙ্গি ও গামছার সুনাম ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এক সময় উপজেলার মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলা ছিল লুঙ্গি ও গামছার জন্য বিখ্যাত।
উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামেই কম-বেশি লুঙ্গি ও গামছা বুনানো হতো। এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে দু'চারটি লুঙ্গি ও গামছা বুনানোর জন্য তাঁত ছিল না।
উপজেলার গ্রামগুলোতে যারা পাঁয়ে ও হাতের সাহায্যে তাঁত বা পিৎলোম দিয়ে লুঙ্গি ও গামছা বুনাতো তারা এক সময় ভালোভাবেই পরিবার নিয়ে সংসার চালাতো। কারণ সে সময় সুতার দাম কম থাকায় জমজমাট ব্যবসা করা যেতো।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লুঙ্গি ও গামছা সে সময় জেলার বেলকুচি, পাঁচলিয়া সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার লুঙ্গি ও গামছা কেনাবেচা হতো।
এ উপজেলার তাঁতিদের বুনানো লুঙ্গি ও গামছার সুনাম আজ যেনো শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে। সেই সময়কার তাঁতি ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা আজ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বর্তমান বাজারে সুতার দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাঁত পণ্যের সকল কিছুর দাম।
যে দামে সুতা কিনে লুঙ্গি ও গামছা বুনে বাজারে বিক্রি করছে তা দিয়ে তাদের একেবারেই চলছে না। আবার যাদের সামর্থ আছে তারা ব্যাংক লোন কিংবা জমিজমা বিক্রি করে পাওয়ার লোম বসিয়ে ব্যবসা করছেন। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে এ ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।
উপজেলার কয়েকজন তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ উপজেলার ঐতিহ্য বিখ্যাত হাতে-পায়ে বুনানো লুঙ্গি ও গামছার তাঁতশিল্পকে টিক রাখতে দরকার সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতা। উপযুক্ত সাহায্য সহযোগিতা পেলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন উপজেলার ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা।
এআরএস
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন