বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ এর উদ্যোগে ৭ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে এক শান্তিপূর্ণ মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ।
জনাব মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকুরিজীবিদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম এর সম্মানিত সভাপতি জনাব মো. লুৎফর রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মূখ্য সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জনাব মো. ওয়ারেছ আলী।
উক্ত মানব বন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, মো. ইব্রাহিম খলিল, সভাপতি, তৃতীয় শ্রেনী সরকারী কর্মচারী সমিতি, মো. আনিসুর রহমান,সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমাজ, খন্দকার মহিউদ্দিন আহমেদ, সভাপতি আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারি ফেডারেশন, নাসির উদ্দিন হাওলাদার, আহবায়ক, বাংলাদেশ ১৭-২০ গ্রেড কর্মচারি সমিতি, জনাব মো. জিয়াউল হক, সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদ, খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, সমন্বয়ক, মো. মাহমুদুল হাসান, সমন্বয়ক, মো. গাজিউল ইসলাম, সমন্বয়ক, মো. নূরে আলম সিদ্দিকী রবিউল, সমন্বয়ক, আসমা খানম, সমন্বয়ক, মো. হেলাল উদ্দিন, সমন্বয়ক, নুরে আলম, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ ১৭-২০ কর্মচারি সমিতি, মো. আইনুন হক,সার্ভে অব বাংলাদেশ, মো. মোফাজ্জল হোসেন, সমন্বয়ক, মো. আব্দুল্লাহ ,সমন্বয়ক, বিভাগীয় সমন্বয়ক- মো. আসাদুর রহমান, মো. খোরশদ আলম, আবুল কালাম আজাদ, সেলিম রেজা, যুগ্ম সমন্বয়ক আফরোজ আলী মোল্যা,মোজহারুল ইসলাম, মো. ফরিদ আহমেদ সরদার, কায়সার হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মো. তারিকুল ইসলাম, কামরুজ্জামান উজ্জল, সরোয়ার হোসেন তালুকদার, মাহবুব হোসেন তালুকদার, আরিফুল ইসলাম,ঢাকা বিভাগ ১ এর সভাপতি মৌসুমী প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম, আশফাকুল আশেকীন, মো. আব্দুল হালিম, গাজী সালাউদ্দিন, শাহীনুর রহমান, আব্দুল্যা আল মামুন, মো. শফিকুল ইসলাম,মো. শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, বেলাল হোসেন, আতাউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় কমিটি অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মূখ্য সমন্বয়কসহ সমন্বয়কবৃন্দ বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী দাবী আদায় ঐক্য পরিষদের নি¤œবর্ণিত ৭ দফা দাবীবাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রজাতন্ত্রের সকল স্তরের কর্মচারীদের প্রতিনিধিগণ মানব বন্ধন কর্মসূচিতে কর্মচারীদের মনের পূঞ্জিভ‚ত অসন্তোষ ও বিরাজিত ক্ষোভ নিরসনসহ ৭ দফা দাবী দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।
৭ দফা দাবি সমূহ নিম্নরুপ:
১। পে-কমিশন গঠন পূর্বক ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের পূর্বে অন্তবর্তীকালীন কর্মচারীদের জন্য ৫০% মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করতে হবে।
২। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী ১০ ধাপে বেতন স্কেল নির্ধারণসহ পে-কমিশনে কর্মচারী
প্রতিনিধি রাখতে হবে।
৩। সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তর, অধিদপ্তরের পদনাম পরিবর্তনসহ ১০ম গ্রেডে উন্নীত করণ এবং এক ও অভিন্ন
নিয়োগবিধি প্রনয়ণ করতে হবে।
৪। টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পূণর্বহাল সহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পূনঃবহল, বিদ্যমান
গ্রাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০% এর স্থলে ১০০% নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান
৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৫। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আপীল বিভাগের রায় বাস্তবায়নসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন
নিয়োগ বিধি-২০১৯ এর ভিত্তিতে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ ও অধঃস্তন আদালতের কর্মচারিদের বিচার
বিভাগীয় সহায়ক কর্মচারি হিসেবে অন্তভর্‚ক্ত করতে হবে।
৬। আউট সোর্সিং পদ্ধতি বাতিল পূর্বক উক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত ও উন্নয়ন খাতের কর্মচারীদের
রাজস্বখাতে স্থানান্তর করতে হবে। বøক পোষ্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫
বছর পর পর বেতন স্কেলের উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে।
৭। বাজারমূল্যের উর্দ্ধগতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সমন্বয় পূর্বক সকল ভাতাদি পুনঃনির্ধারণ করতে
হবে। চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে।
মানব বন্ধন কর্মসূচির স্বাগত বক্তব্যে মুখ্য সমন্বয়ক বলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় বৈষম্য মেনে নেয়া যায় না। দ্রব্য-মূল্যের চরম উর্দ্ধোগতি ও পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয়ভার প্রাপ্ত বেতনের অর্থ দিয়ে মাসের ১৫ দিনও চলা সম্ভব হয় না। ৫ বছর পর পর পে-স্কেল প্রদানের প্রথা চালু থাকলেও ২০১৫ সালের ৮ম পে-স্কেল প্রদানের পর দীর্ঘ ৭ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এ পর্যায়ে কর্মচারিদের ৯ম পে-স্কেলসহ ভাতাদির অসংগতি দূর করা প্রত্যাশিত।
অনতিবিলম্বে সকল দপ্তর অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদনাম পরিবর্তন করে বেতন ও পদবী বৈষম্য দুর করে পূর্বের ন্যায় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পূনর্বহলসহ এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ৩০ এপ্রিল ২০২৩ তারিখের মধ্যে উল্লেখিত দাবিসমূহ যদি বাস্তবায়ন না হয় অথবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাথে আলোচনার সুযোগ না দেয়া হয় তাহলে আগামী ১২ মে ২০২৩ তারিখ কেন্দীয় শহীদ মিনার , ঢাকায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠানের ঘোষণা করেন। তার পরেও দাবি বাস্তবায়িত না হলে পরবর্তীতে কঠোর থেকে কঠোরতম কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, ১১ থেকে ২০ গ্রেডের বঞ্চিত লক্ষ লক্ষ কর্মচারীদের দাবীর বিষয় বিবেচনা না করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব নয়। এ সকল দাবী বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য মহান জাতীয় সংসদে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তদুপরি সরকারের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আজকের এই মানব বন্ধন থেকে ৭ দফা দাবীসমূহ মেনে নেওয়ার জন্য তিনি মানবতার মা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবারো জোর দাবী জানান। দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ঘোষিত কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত দাবিসমূহ গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান।
আরএস
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন