বেপরোয়া দালালচক্র

সুন্দরবনে টাকা না দিলে জেলেদের নির্যাতনের অভিযোগ

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৩, ১১:৫২ এএম
সুন্দরবনে টাকা না দিলে জেলেদের নির্যাতনের অভিযোগ

পূর্ব সুন্দরনের বন বিভাগের দালালচক্র এখন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। বন বিভাগের নাম ভাঙিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে । টাকা না দিলে দালালচক্র বিভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে জেলেদেরকে নির্যাতন করছে। এসব দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে পাথরঘাটার জেলেরা।

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের কবির নাজির ও আলমগীর নামের দুই জেলেকে নির্যাতন করে এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর শুক্রবার বিকাল ৬টার দিকে পদ্মা¯ স্লুইজ বাজরে জেলেরা মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা বন বিভাগের দালালদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

কবির নাজির জানান, পূর্ব সুন্দরবনের স্মরণখোলা রেঞ্জের আওতায় পাঁচটি স্টেশন কটকা, কচিখালি, চন্দেস্বর, সুপতি ও বড়বগির। এসব এলাকায় মাছ শিকারসহ গোলপাতা আহরণ করতে হলে স্মরণখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে পাস পারমিট নেত হয়। যারা পাস না নিয় অবৈধ ভাবে সুন্দরবনে মাছ শিকার করে তাদের বন বিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা ও কর্মচরিদের টাকা দিতে হয়। আর এই টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন স্টেশনে দালাল  (বেসরকারি লোক) নিয়োগ দিয়েছে বন বিভাগ। এসব দালালেরা সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ চরগড়া, বেহুন্দী জাল, অবৈধ কারেন্ট জাল থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 

দালালচক্রের মধ্যে পাথরঘাটা পদ্মা- স্লুইজ এলাকার চান মিয়া ওরফে চান্দু জড়িত রয়েছেন। তার বাড়ি স্মরণখোলা বকুলতলা গ্রামে। তিনি সুন্দরবনে অবৈধ চরগড়া দিয়ে মাছ শিকার করেন এবং পাথরঘাটা থেকে যারা ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনে পাশ ছাড়া মাছ ধরতে যায় তাদের কাছ থেকে বন কর্মকর্তাদের নামে টাকা তোলেন।

জেলে আলমগীর হোসেন জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে চান্দুকে টাকা না দিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাই। এসময় চান্দু মিয়া কটকা স্টেশনে ফোন দিয়ে আমাদের দুটি ট্রলার আটক করায় এবং প্রতিটি ট্রলারে ৭০ হাজার টাক করে জরিমানা করে ট্রলার আটকে রাখে বন বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার এই টাকা নিয়ে স্মরণখোলা অফিসে যাওয়ার পথে চান্দু মিয়া তার দালালচক্র নিয়ে আমাদেরকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং একটি বাড়ির মধ্যে আটকে রেখে মারধর করে। ওই দিন সন্ধ্যার পরে আমাদের মোটরসাইকেলে করে নিয়ে অপরিচিত গ্রামে একটি বিলের মধ্যে রাত ৩টা পর্যন্ত নির্যাতন করে। পরে নদীতে ফেলে দেয়া জন্য আমাদের দু’জনকে বস্তার মধ্যে ঢোকানোর চেষ্টা করে। এসময় আমাদের অপরাধের কথা জানতে চাইলে। চান্দু মিয়া জানান, তোরা সুন্দরবনের বন কর্মকর্তাদের তথ্য পাচার কর। তোদের মেরে ফেলার নির্দেশ আছে। পরে সঙ্গে থাকা এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে প্রাণে বেঁচে এসেছি। আমরা প্রসাশনের কাছেও যেতে পারি না। এসব দালাল চক্রের বিচারের দাবি জানাই আমরা।

স্মরণখেলা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক শেখ মাহাবুবুর রহমান জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা সভাই বাহিরের লোক। আমদের কোন দালাল নেই। বন বিভাগের কোন লোক যদি জড়িত থাকে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয় চান্দু মিয়া জানান, আমিসহ অনেক জেলেরা সুন্দরবন এলাকায় মাছ ধরে। বন বিভাগের লোকেরা জেলে কবির নাজিরকে ট্রলারসহ আটক করার পর তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে আমি ছাড়িয়ে এনেছি। সেই টাকা আমাকে ফেরত না দেয়ায় তার কাছ থেকে আমি টাকা রেখে দিয়েছি। তাদেরকে কোন মারধর করা হয়নি।

এআরএস