বরিশালের গৌরনদীতে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী(১৯) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। শনিবার রাতে ওই গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ গণধর্ষককে গ্রেফতার করেছেপুলিশ।
গণধর্ষণের শিকার ওই নারী (১৯) জানায়, গত এক বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তিঝালকাঠী জেলার এক সৌদি প্রবাসীর সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ৫ মাস পরে তার স্বামী সৌদি আরবে চলে যায়। এর পর থেকে সে তার বারার বাড়ি গৌরনদী উপজেলার চন্দ্রহার গ্রামে অবস্থান করছে। একটি জরুরী কাজের জন্য শনিবার সকালে সে তাদের পার্শ্ববর্তি সরিকল গ্রামে তার সাবেক প্রাইভেট শিক্ষক মোঃরেজাউল করিম পলাশ (৫৭)’র বাড়িতে যায়। তার সাথে প্রয়োজনীয় আলাপ সেরে বেলা ১১টার দিকে সে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে ওই এলাকার নাসির মোল্লার বখাটে ছেলে ইয়াসিন মোল্লা (১৯), নজরুল মৃধার বখাটে ছেলে জিহাদ মৃধা (১৯), নুরু চৌকিদারের বখাটে ছেলে হৃদয় চৌকিদার (১৯) মিলে তার পথরোধ করে। এরপর তারা ওই নারীকে জিজ্ঞাসা করে সাবেক প্রাইভেটরেজাউল করিম পলাশের বাড়িতে সে কেন গিয়েছিল। প্রবাসীর স্ত্রী তাদের জিজ্ঞাসার কোন জবাব না দিলে বখাটেরা তাকে নানা ভয় ভীতি দেখিয়ে ওই এলাকার বেল্লালের বাড়ির চায়ের দোকানের পাশের টিনের ছাপড়ার ছোট ঘরের ভেতরে নিয়ে গণধর্ষণ করে।
প্রবাসীর স্ত্রী ধর্ষিতা ওই নারী অভিযোগ করেন, ওইদিন বেলা ১১টা ১০ থেকে ১১টা ৫০ পর্যন্ত এ ৪০ মিনিট ধরে প্রথমে জিহাদ মৃধা, তারপর ইয়াসিন মোল্লা, শেষে হৃদয় চৌকিদার এভাবে পরপর তিনজন তাকে পালাক্রমেগণধর্ষণ করে। এরপর বখাটেরা ওই নারীর সাবেক প্রাইভেট শিক্ষক মোঃরেজাউল করিম পলাশের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি আটে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা তাদের অপর সহযোগী একই এলাকার জামাল হাওলাদারের বখাটে ছেলে মোঃ শিশির হাওলাদার (২৩), মৃত হানিফ বেপারীর বখাটে ছেলে মোঃ রেজাউল বেপারী (১৯) ও পার্শবর্তি বাবুগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরমল্লিক গ্রামের সামচুল আলম সিকদারের বখাটে ছেলে সালমান সিকদার (১৯)কে মুঠোফোনে ডেকে এনে তাদেরকেসহ ধর্ষিতাকে নিয়ে ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে প্রাইভেট শিক্ষক পলাশের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে শিক্ষক পলাশের সহায়তায় ওই শিক্ষকের পাঁকা বাসভবনের দোতলার একটি কক্ষে গণধর্ষিতাকে আটকে রেখে তিন ধর্ষকের অপর তিন সহযোগী শিশির হাওলাদার, রেজাউল বেপারী, সালমান সিকদারকে দিয়ে দুপুর ১২টা ১০ থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ১ ঘন্টা ২০ মিনিট ধরে গণধর্ষিতা ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে দ্বিতীয় দফায় গণধর্ষণ করায়। সেখানে প্রথমে শিশির হাওলাদার, পরে রেজাউল বেপারী, শেষে সালমান সিকদার এভাবে পরপর তিনজন বখাটে তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।
গৌরনদীমডেল থানার ওসি মোঃআফজাল হোসেন জানান, ঘটনা টের পেয়ে সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি টীম ঘটনাস্থলে পৌছে ধর্ষিতাকে উদ্ধার ও গণধর্ষণে অভিযুক্তদের ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
আটককৃতরা হল, ধর্ষক ইয়াসিন মোল্লা (১৯), মোঃ শিশির হাওলাদার (২৩), মোঃ রেজাউল বেপারী (১৯), সালমান সিকদার (১৯) ও ধর্ষণে সহয়তাকারী ধর্ষিতার সাবেক প্রাইভেট শিক্ষক মোঃরেজাউল করিম পলাশ (৫৭)।
পরে ধর্ষিতা নারী বাদী হয়ে ৬ ধর্ষক ও একজন সহযোগীসহ ৭ জনকে আসামী করে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে গৌরনদী মডেল থানায় একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করে। পুলিশের হাতে আটককৃত সহযোগীসহ ধর্ষকদের ৫ জনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ রোবরাব সকালে তাদেরকে বরিশাল আদালতে সোর্পদ করেছে। ধর্ষিতার ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি রেকর্ড করার জন্য তাকেও বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরএস
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন