জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে ইউপি সদস্য রেজাউল হককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার দুপুরে সরিষাবাডী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মেহেদী হাসান।
ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রেজাউল হক হাটবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে।
জানা গেছে, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা গ্রামের মৃত আইন উদ্দিন মাস্টারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য মামুন অর রশীদ বুধবার দুপুরে ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদে তার সহযোগীদের নিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় পরিষদের উদ্যোক্তা ইমরান হোসেনের কক্ষে ঢুকে চাপ প্রয়োগ করে এক মেয়ের জন্মসনদ দিতে বলে। জন্মসনদ দিতে দেরি হওয়ায় হুমকি দেয় মামুন। এরপর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কক্ষে গিয়ে ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল হকের সাথে অসদাচরণ করে মামুন। এর প্রতিবাদ করলে ইউপি সদস্য রেজাউল হককে সচিবের কক্ষ থেকে বের করার জন্য টানা হেচড়ার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করতে থাকে মামুন।
পরে গ্রাম পুলিশ ও সেবা নিতে আসা লোকজন ইউপি মেম্বার রেজাউল হককে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রেজাউল হক বলেন, অসদাচরণের প্রতিবাদ করায় বখাটে মামুন আমাকে মারধর করে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও বিচার দাবি জানান তিনি।
পরিষদের উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন বলেন, জোরপূর্বক মেয়ের জন্মসনদ দিতে বলে মামুন। দিতে দেরি হওয়ায় তাকে হুমকি দেয় বলে জানান তিনি।
ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, পরিষদে ঢুকে প্রথমে উদ্যোক্তাকে হুমকি দেয় মামুন। ইউপি সদস্য রেজাউল করিম এর প্রতিবাদ করলে তার উপর হামলা করে মামুন ও তার লোকজন। এ ঘটনায় বিচার দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক স্বপন বলেন, এর আগেও একাধিকবার পরিষদে ঢুকে অনেকের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকারের দাবি জানাই।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান বলেন, মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা সাথে জড়িত ব্যক্তিকে মামুনকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন