ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া করে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। অসহায় দরিদ্র মানুষদের সেবা করবে। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।নিজেই মরণব্যাধি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে দুকে দুকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বলছিলাম বরগুনা পাথরঘাটা পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের তানজিল আক্তারের কথা। সুখ যেন কপালে নেই, দুঃখ যেন পিছু ছাড়ছেই না এই পরিবারের ক্যান্সার আক্রান্ত তানজিলা। মা খাদিজা বেগমের জীবন যেন মৃত্যুপুরীতে রুপন্তী হয়েছে। চেয়েছিলো পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে আত্মহত্যা করবে। সেটাও যেন পারছে না।
১৯৯৫ সালে খাদিজা বেগমের সাথে ইউসুফ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পাঁচ বছরের মাথায় একটি দুর্ঘটনায় খাদিজা বেগম তার স্বামীকে হারায়। তখন তানজিলা আক্তার ছয় মাসের গর্ভে ছিল। জন্মের পর থেকেই তানজিলাকে নিয়ে খুব অভাব অনটনে দিন পার করে আসছে খাদিজা বেগম। ভিক্ষা করে তিনবেলা খাবার খেতে হতো এই পরিবারের। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে মেয়েকে নিয়ে পাড়ি জমান শহরের দিকে। গার্মেন্টসে চাকরি করে মা মেয়ের সংসার চলত কোনোমতে।
পরে ২০১৪ সালে বাসেদ নামের এক ব্যক্তির সাথে খাদিজা বেগমের দ্বিতীয় বিবাহ হয় সেখানেও এক মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধিতে তার স্বামীর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর আর খাদিজা বেগমের কষ্টের সীমা থাকে না। মরার ওপার খরার গার মত সুস্থ থাকা ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে তানজিলা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। ছোটবেলায় কোরআন শেখা ছিল তানজিলার, অনেকগুলি সূরা মুখস্থ ছিল। কিন্তু স্মৃতিশক্তি হারিয়ে তিনি এখন কিছুই মনে করতে পারছেন না। ২০১৮ সাল থেকে তিনি তার স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন। শরীরের এমন কোন স্থান নেই যেখানে তার সমস্যা নেই। খাদিজা বেগম থাকার জন্য কোন স্থান না পেয়ে এলাকার মানুষের সহযোগিতায় বিলের মধ্যে অন্যের জমিতে একটি ছোট ঘর তুলেছে। নিরুপায় হয়ে এলাকায় এলাকায় ভিক্ষা করে বিয়ের বয়সী ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়ে তানজিলাকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে দিন পার করছে। যে বয়সে পড়াশোনা ও বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে থাকার কথা। সেই বয়সে বিছানায় শুয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার যন্ত্রণায় ছটফট করছে ক্যান্সার আক্রান্ত তানজিলা।
ডাক্তার জানিয়েছে অসুস্থ তানজিলাকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হলে। আবারো ফিরে আসতে পারে তার স্মৃতি। সুস্থ হতে পারে তানজিলা। তবে এই চিকিৎসা করতে খরচ হবে কয়েক লক্ষ টাকা। যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায় তানজিলার পরিবারের। সেখানে এত টাকা কীভাবে জোগাড় করবে সেই চিন্তায় দিশেহারা খাদিজা বেগম।
মানুষ তো মানুষের জন্যই। চোখের সামনে কারো স্বপ্ন জদি ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। তবে মানুষ হিসেবে কারোই হয়ত ভালো থাকার কথা না। জানিনা কি লেখা আছে তানজিলার ভাগ্যে। কিন্তু আমরা চাইলেই হয়ত তার ভাগ্যের অংশীদার হতে পারি। সবার সহযোগিতায় তানজিলাকে ফিরিয়ে দিতে পারি ক্যান্সার মুক্ত একটি সুন্দর সুখের জীবন।
বিআরইউ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন