কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বহুল আলোচিত নাজমুল হোসেন হিরাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে নাজমুল হোসেন হিরাকে কিশোরগঞ্জ ১নং আমল গ্রহণকারী আদালতে তোলা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।
এর আগে রবিবার রাতে চিনিচোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলার গাংগিনার পাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।
তিনি জানান, ভারতীয় চিনি চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রবিবার রাতে হিরাকে গ্রেফতার করা হয়।সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা নির্দেশ দেয়।প্রয়োজন হলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে রবিবার দুপুরে হীরার কলেজ পড়ুয়া কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মিতু আক্তার কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমানের আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় হীরা`কে।মামলার অন্য দুই আসামিরা হলেন হীরার দুই মামা, বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন এবং তার বড় ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মোল্লা বাবু। তাদের সবার বাসা জেলা শহরের বয়লা তারাপাশায়।
মামলার বিবরণে বাদী জানান, কলেজে পড়া অবস্থায়ই তাকে জোরপূর্বক বিয়ে করেন হীরা। যদিও কাবিননামা হাতে পাননি তিনি। এর আগে নিজের প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রাখেন তিনি। হীরা তার সঙ্গে গোপন মুহূর্তের ভিডিও এবং স্থিরচিত্র মোবাইলে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন। তিন আসামিই হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় চিনি আনার ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও তার ভাগ্নে নাজমুল হোসেন হিরাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এরপর পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হওয়ায় মারাত্মক ইমেজ সংকটে পড়েছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোল্লা সুমন ও তার অনুসারীরা।
বিআরইউ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন