ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে কলেজ ছাত্র নিখোঁজ, উদ্ধার হয়নি ৬দিনেও

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৪, ০৫:৪৩ পিএম
ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে কলেজ ছাত্র নিখোঁজ, উদ্ধার হয়নি ৬দিনেও

বাবা-মার কান্না যেন থামছেইনা। ছেলে হারানো বেদনায়  যাকে পাচ্ছে তাকে জড়িয়ে ধরে বলছেন, ‘আমি তোকে ব্যাংকে না পাঠালে আজ এমন হতোনা। কই গেলিরে মুনি। পায়ে ধরি ফিরে আই। আপনাদের পায়ে ধরি যেখান থেকে পারেন ছেলেকে আনে দেন।’ একমাত্র সন্তান হারানোর শোকে কাঁন্নায় ভেঙে পড়ে কথাগুলো বলছিলেন মোছা. রাশিদা বেগম।

তিনি কু‌ষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বাঁশআড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।

গত ২৭ জুন দুপুরে কুমারখালী জনতা ব্যাংক শাখায় নগদ পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন রাশিদা-রাজ্জাক দম্পতির একমাত্র সন্তান নাজমুস সাকিব (১৭)। সে কুষ্টিয়া সেন্ট্রাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ঘটনার দিন রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তার বাবা।

এদিকে নিখোঁজের ৬ দিন অতিবাহিত হলেও সাকিবের সন্ধান পাননি তার স্বজনরা। 

সাকিবের বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনার দিন দুপুরে কুমারখালী জনতা ব্যাংকে তার হিসাব নম্বরে নগদ পাঁচ লাখ টাকা জমা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তার ছে‌লে। কিন্তু সে ব্যাংকে টাকাও জমা দেয়নি। আবার বাড়িতেও ফিরে আসেনি।

তার দা‌বি, টাকার জন্য অজ্ঞাত কেউ তার ছেলেকে গুম করতে পারে। বা তার ছেলের সাথে খারাপ কিছুও ঘটাতে পারে। তিনি দ্রুত তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধারের জন্য পু‌লি‌শের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনতা ব্যাংক পিএলসি কুমারখালী  শাখার ব্যবস্থাপক বদিউজ্জামান বাবলু জানান, আব্দুর রাজ্জাক একজন ভাল ব্যবসায়ী। নিয়মিত তার ব্যাংকে লেনদেন করেন তিনি। তবে সেদিন রাজ্জাকের হিসাব নম্বরে কোনো লেনদেন হয়নি। বা তার ছেলেও ব্যাংকে আসেনি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) ওসি মো. আকিবুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিখোঁজ ছাত্রের বাবা। তাকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ। ওই ছেলেকে উদ্ধার করতে সঁাড়াসী অভিযান চালছে। কুমারখালীসহ আশপাশ সব জায়গায় অভিযান চলছে।

বিআরইউ