ফেনীতে হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, লুটপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তারার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ।
রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় হিন্দু নেতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের কয়েকটি স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, বসতভিটা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে শনিবার বিকালে ফেনী সনাতনী সচেতন ছাত্র জনতার ব্যানারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশ মিলিত হয় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
এ সময় বক্তারা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই দেশের একাধিক স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের ওপর হামলা, বাস্তুভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানিয়ে এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে
অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যদিকে,আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দিন-রাত ফেনীর ৬টি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় সহ বাড়ি-ঘর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাহারা দিয়ে আসছে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপি ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওই সমন্বয়কের বরাত দিয়ে জেলা হিন্দু বৈদ্য ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন ও সদস্য অ্যাডভোকেট প্রার্থ পাল প্রতিবেদককে জানান, সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।
তাদের দাবি জেলার কোথাও হিন্দুদের কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। উল্টো জামায়াত-বিএনপির লোকজন হিন্দুদের নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।
রোববার বিকালে শহরের প্রধান মন্দিরে হিন্দুদের সঙ্গে এ ব্যাপারে মতবিনিময় করেছেন বিএপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।
এরপরও মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করে ফেনীতে হিন্দু-মুসলিমের এ সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার মো মাঈনুল ইসলাম পিপিএম বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, হিন্দুদের নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। জেলার কোথাও তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন