উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি মাঠ তলিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়।
এখানে পানির বিপদসীমা ৫২.১৫ মিটার। গতকাল সকাল ৯টায় পানি ছিল ৫২.২০ মিটার, আর আজ সকাল ৯টায় তা ৫২.৩২ মিটারে পৌঁছেছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশাচাপানী ও ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের ক্ষেত ও সবজি বাগান।
টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, “তিস্তায় পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা অব্যাহত আছে। ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ি ও দক্ষিণ খড়িবাড়ি গ্রামের আংশিক এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে ছয় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। নদীর কয়েকটি চ্যানেল বের হয়ে আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। অনেকে গো-খাদ্য সংকটে পড়ায় গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, “বন্যায় কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষি জমি ও বসতভিটায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। কৃষি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢল নেমে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সকাল ৯টায় তা ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খোলা আছে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন