ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের কালের নীরব সাক্ষী প্রতাপপুর জমিদার বাড়িটি দিনে দিনে ঐতিহ্য হারাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় এটি ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ঐতিহাসিক ও প্রাচীন নিদর্শন। এসব নিদর্শনের মধ্যে প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি অন্যতম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বাড়ির ঐতিহ্য শুনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন।
জানা গেছে, ১৮৫০ সালে রাজকৃষ্ণ সাহা কিংবা রামনাথ কৃষ্ণ সাহা এ বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে এটি ‘প্রতাপপুর বড় বাড়ি’ নামেই বেশী পরিচিত।
প্রায় ১৩ একর জমির ওপর নির্মিত জমিদার বাড়িটি উপজেলার কয়েকটি চৌধুরী, ভূঞা ও জমিদার বংশের মধ্যে প্রতাপপুর জমিদারদের অবস্থ'ান ছিল শীর্ষে। তারা ছিল আশপাশের এলাকার জন্য প্রভাবশালী জমিদার। ব্রিটিশ আমলে বাড়ির জমিদার রাজকৃঞ্চ সাহা এ বাড়িতে বসেই এলাকার শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। জমির খাজনাদি আদায় করতেন তিনি এবং তার ৫ ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়িতে ঢুকতেই নজর কাড়বে একতলা ও দোতলা ভবনের কাঁচারি ঘর। তার একটু সামনেই রয়েছে ছোট্ট একটি ঠাকুর ঘর। বাড়িটিতে রয়েছে ১০টি ভবন ও ১৩টি পুকুর। পাশেই পুকুর পাড়ে স্থাপিত ভাঙাচোরা বৈঠকখানা ও ঘাটলা।
সামনে তাকালে দুটি দৃষ্টিনন্দন দালান। ওই দালানের মাঝ দিয়ে সরু গলি পার হলেই চোখে পড়ে একটি বড় উঠান। উঠানের তিন পাশে দাঁড়িয়ে আছে ৩টি তৎকালীন অভিজাত দালান।
বাড়িটির দালানগুলোর দেয়াল খসে গেছে অনেক জায়গায়। ইটের স্তর ভেদ করে গজিয়েছে পরগাছা। কোনো কোনো ভবনের উপরিভাগ অনেক আগেই ক্ষয়ে গেছে। শ্যাওলা জমে গেছে অনেক জায়গায়। নাজুক সিলিং লোহার ভিমের ওপর স্তম্ভ, যে কোনো সময় ভেঙে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
দাগনভ‚ঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, বাড়িটি এখনও জমিদারদের ওয়ারিশদের মালিকানায় রয়েছে। এ কারণে সরকারিভাবে এখানে সংস্কার বা অন্য কিছু করা যাচ্ছে না। এর আগে জমিদারদের নাতিদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করা হলেও তাদের থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতাপপুর জমিদার বাড়ির বিষয়ে আমি জেনেছি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বাড়িটির ঐতিহ্য রক্ষা ও পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন