মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, মাদক প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল বেলায় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, বিপিএম, পিপিএম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়ার্দ্দারসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অনুষ্ঠানস্থল ছিল ছাত্রীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ।
পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন, “নারী ও শিশুদের যেকোনো সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে পুলিশ সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুরা যাতে আইনগত সহায়তা পান, সে বিষয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ নজর রয়েছে। এসব ঘটনার ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত সমাধান প্রদান করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে যথাযথ সহায়তা দিতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে। পাশাপাশি তাদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধিতে পুলিশ পরামর্শ ও সহায়তা দেবে।”
পুলিশ সুপার ছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “কেউ যদি ইভটিজিংয়ের শিকার হন, তাহলে দেরি না করে মাগুরা জেলা পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।”
সভায় জানানো হয়, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, মাদক এবং গুজবসহ বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া নারীদের স্বনির্ভরতা অর্জনে উৎসাহিত করা হবে এবং আইনগত জটিলতায় থাকা নারীদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়ার্দ্দার বলেন, “এ ধরনের আয়োজন ছাত্রীদের সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে। বিশেষ করে পুলিশ সুপারের সরাসরি উপস্থিতি তাদের মনে আস্থা জাগিয়েছে।”
সভায় অংশ নেওয়া দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, “আমরা জানতাম ইভটিজিং হলে শিক্ষকদের জানাতে হয়, কিন্তু এখন বুঝলাম সরাসরি পুলিশকেও জানাতে পারব। এতে আমাদের নিরাপত্তা অনেক বৃদ্ধি পাবে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পুলিশ সুপার সকলকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “ফেসবুক বা অন্য প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার, গুজব বা হয়রানির শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সাহায্য নিন। আইন সবার পাশে আছে।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও অসংখ্য ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। সবাই পুলিশ সুপারের বক্তব্যকে প্রশংসা করেন এবং নারী-শিশু সুরক্ষায় তার উদ্যোগের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন