আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনেলের তদন্ত সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল যশোরের চৌগাছায় দুই শিবির নেতার ক্রসফায়ারের রোমহর্ষক ঘটনার তদন্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী তারা ঘটনাস্থল, থানা, হাসপাতাল ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনেলের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এ দল ঘটনাস্থলে তদন্ত পরিচালনা করেন।
তদন্ত দলের কাছে শিবির নেতা ইসরাফিল হোসেন ও রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন সরকার আমলে চৌগাছা থানার ওসি মশিউর রহমান, সেকেন্ড অফিসার এসআই আকিক, এসআই মখলেস, এসআই আহসান, এএসআই মাজেদ হোসেন ও তাদের সঙ্গীরা কোনো কারণ ছাড়াই মহেশপুর-চৌগাছা সড়কের টেঙ্গুরপুর মোড় থেকে তাদের আটক করেন। পরে রাতে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে গিয়ে ‘মিথ্যা ক্রসফায়ারের নাটক’ সাজিয়ে তাদের দুইজনের পায়ে গুলি করা হয়।
এরপর তাদের চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সেখান থেকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হলে ইসরাফিল হোসেন ও রুহুল আমিনের প্রত্যেকের একটি করে পা কেটে বাদ দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের জেলে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তদন্ত দলের সদস্যরা দিনভর ঘটনাস্থল, হাসপাতাল, থানা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। সরেজমিনে বুন্দলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বর্ণনা শোনেন। এ সময় তারা ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনেলের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “আমরা দিনব্যাপী বিভিন্ন সূত্র থেকে সাক্ষ্য ও তথ্য সংগ্রহ করেছি। এ প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনেলের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হবে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন