ময়মনসিংহ নগরীতে প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে যানজট। বিশেষ করে পলিটেকনিক মোড় থেকে চরপাড়া মোড়, ব্রীজমোড় হয়ে নতুন বাজার বাইপাস পর্যন্ত যানজট এখন নগরবাসীর জন্য এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে।
সকাল-বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ব্যস্ত সড়কেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের।
যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে মানুষের মূল্যবান সময় ও অর্থ। সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না চাকরিজীবীরা, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে না পারায় পড়াশোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে হাসপাতালে আসা-যাওয়া রোগীদের জন্য।
চরপাড়া মেডিকেল হাসপাতাল এলাকার চতুর্মুখী রাস্তায় যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনেরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন, যা মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।
শুধু সময় ও অর্থের ক্ষতিই নয়, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে বাড়ছে বায়ুদূষণ, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ, সড়কে অবৈধ পার্কিং, হকারদের দখল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ।
জানা গেছে, বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীতে ট্রাফিক পুলিশের সদস্য সংখ্যা ১৩০ জন। এর মধ্যে ব্রীজমোড়ে দিনে আট ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন মাত্র পাঁচজন সদস্য এবং চরপাড়া মোড়ে চারজন। বাকি সদস্যরা অন্যান্য মোড়ে অবস্থান করছেন। অথচ ব্রীজমোড়ে চারদিক থেকে যানবাহন প্রবেশ ও বের হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের মতে, এখানে কার্যকরভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন ট্রাফিক পুলিশ প্রয়োজন। একইভাবে চরপাড়া, পলিটেকনিক মোড় ও কলেজগেট এলাকায় বর্তমানে চারজন ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও বাস্তব চাহিদা মেটাতে সেখানে অন্তত ১২ জন সদস্যের উপস্থিতি জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নগরীর এই অবস্থা দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে মানুষের জীবনযাত্রা আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। তাই নগরবাসীর প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ময়মনসিংহ শহরকে যানজটমুক্ত করবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন