কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দিন দিন বাড়ছে দানের পরিমাণ। এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা হলো ১৩টি লোহার দান বাক্স। সেখান থেকে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
শনিবার দিনভর গণনা শেষে পাওয়া যায় রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।
রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছ সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাধারণত প্রতি ৩ মাস পর পর দান বাক্স খোলা হলেও এবার খোলা হলো ৪ মাস ১৮ দিন পর।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, দানের সব অর্থ জমা রাখা হয় মসজিদের নামে খোলা একটি ব্যাংক হিসাবেই। ইতিমধ্যে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে দানের অর্থ নয়ছয় করার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি টাকার হিসাব সুক্ষ্মভাবে রাখা হয় এবং নিয়মিত ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
জনশ্রুতি আছে, একসময় এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বসবাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর চরে। তার মৃত্যুর পর এখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়।
বিশ্বাস করা হয়, এখানে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এ কারণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ মসজিদে দান করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন