ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক রাত নামলেই অন্ধকারে ঢেকে যায়। আধুনিক সড়ক বাতি বসানো হলেও বছরের পর বছর এগুলো অচল থাকার কারণে দুর্ঘটনা এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে।
ফলে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের জন্য রাতের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়ক বিভাজন ও ইউটার্ন এলাকায় আলো না থাকার কারণে প্রায়ই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে চুরি ও ছিনতাই করছে সংঘবদ্ধ চক্র।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের প্রতিটি বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক বিভাজন নির্মাণ করা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ল্যাম্পপোস্ট জাতীয় সড়ক বাতি বসানো হয়েছে।
এছাড়া ফুটওভার ব্রিজেও বাতি রয়েছে। তবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অধিকাংশ বাতি অচল অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার রাতে সরেজমিন মহাসড়কের টেপড়া, উথলী, পাটুরিয়া মোড়, বরংগাইল ও মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে পুরো এলাকা অন্ধকারে।
বরংগাইল ও মহাদেবপুরে সড়ক বিভাজনের সামনে কোনো সংকেত চিহ্ন নেই, ফলে রাতের যাতায়াত আরও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। দ্রুত গতিতে চলাচলকারী দূরপাল্লার যানবাহনও সড়ক বিভাজন পাড় হচ্ছে।
বরংগাইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, “অপরিকল্পিত সড়ক বিভাজনের কারণে দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। রাত যত গভীর হয়, ঝুঁকিও তত বাড়ে। কিছুদিন আগে একজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।”
শফিকুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা জানান, “আগে বাতি থাকায় রাস্তা পরিষ্কার বোঝা যেত। এখন বাতি নষ্ট হওয়ায় অন্ধকারে পথ চলা ভয়ঙ্কর। এছাড়া চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে। কয়েকদিন আগে বরংগাইল ফুটওভার ব্রিজে ছিনতাই হয়েছিল।”
প্রাইভেটকার চালক মো. বাবু বলেন, “সড়ক বিভাজনের সংকেত চিহ্ন থাকলেও তা ছোট এবং দূর থেকে চোখে পড়ে না। হঠাৎ সামনে দেখলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়, তাই প্রায়ই যানবাহন ডিভাইডারের ওপরে উঠে যায়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আজমল হোসেন বলেন, “লাইটিং থাকলে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারত। ছিনতাই হলে ধাওয়া করে ধরা যেত। লাখ লাখ টাকা খরচ করে বাতি বসানো হয়েছিল, তবে কিছুদিন সুবিধা নেওয়ার পর বাতি বন্ধ হয়ে গেছে।”
বরংগাইল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অন্ধকারই অপরাধের মূল। দুর্ঘটনা ও অপরাধ রোধে বাতি দ্রুত সচল করা দরকার। আমরা ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে চিঠি দিয়েছি।”
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়ার আলম বলেন, “মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় চুরি হওয়ায় বাতি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে এগুলো সচল করার কাজ চলছে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন