মানিকগঞ্জে দুই সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যা, ডাকাতের হামলায় নারী নিহত

বি.এম. খোরশেদ, মানিকগঞ্জ প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৭:২৫ পিএম
মানিকগঞ্জে দুই সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যা, ডাকাতের হামলায় নারী নিহত

মানিকগঞ্জ শহরের বান্দুটিয়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে দুই শিশু সন্তানসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মা শেখা আক্তার (২৯) দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহতরা হলেন— মালয়েশিয়া প্রবাসী দেওয়ান শাহিন আহমেদের স্ত্রী শেখা আক্তার, তার ছেলে আরাফাত ইসলাম আলভী (৮) এবং মেয়ে সাইফা আক্তার (১)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেওয়ার জন্য সোমবার দিবাগত রাত ১০টায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়ারা তাদের ডাকাডাকি করেন। কোনও সাড়া না পেয়ে মঙ্গলবার সকালেও ডাকাডাকি চালিয়ে বাড়ির মালিককে খবর দেন। পরে জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকা হয়।

পুলিশ দরজার লক ভেঙে ভেতরে ঢুকে মায়ের ঘাটের ওপর ও মেঝেতে দুই শিশুর মরদেহ দেখতে পান। এসময় কাছ থেকে একটি বিষের বোতলও উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন জানান, ঘটনাস্থল থেকে অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইডের উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মা দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পারিবারিক কলহের কারণেই এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।

নিহত শেখা আক্তারের স্বজন আমান আনসারী জানান, দেওয়ান শাহিন ও শেখা আক্তারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। ছেলে শেখার আগের স্বামীর সন্তান, আর মেয়ে শাহীনের। শাহীনের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পাঁচ বছর আগে শাহিন শেখা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে করেন। মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে শাহিন ইজিবাইক চালাতেন। গত মাসে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে বিদেশ যান তিনি।

ঘিওরে বসত ঘর থেকে মুখ বাঁধা নারীর মরদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জের ঘিওরে বসত ঘর থেকে মুখ বাঁধা অবস্থায় রাশিদা বেগম (৫৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ডাকাতরা তাকে হত্যা করে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনা রহস্যজনক উল্লেখ করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলার পশ্চিম বাইলজুড়ি গ্রামে নিজ বসত ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘিওর থানার ওসি (তদন্ত) কহিনূর ইসলাম জানান, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়া রাশিদা বেগম একাই বসবাস করতেন। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে একদল ডাকাত বাড়িতে হানা দেয়, দুজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-মুখ বেঁধে রাখে। এরপর রাশিদা বেগমকে হত্যা করে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে চলে যায়।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। হত্যাকাণ্ড ডাকাতি না পরিকল্পিত তা তদন্ত শেষে জানা যাবে। তদন্তের জন্য নিহতের ভাসতি ও নাতিকে থানায় আনা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাশিদা বেগমের স্বামী নকুমুদ্দিনের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। এরপর জীবিকার তাগিদে জর্ডানে যান। প্রায় ১০ বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। তার একমাত্র কন্যা বর্তমানে জর্ডানে অবস্থান করছেন।

ইএইচ