‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ এই স্লোগান ধারণ করে কাজ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। কিন্তু মাগুরা জেলার একটি আঞ্চলিক বীজ গুদামে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে সেই সমৃদ্ধির ভবিষ্যৎ। সরকারি ধানবীজ বিক্রিতে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাগুরার বিএডিসি নন সিড গুদাম থেকে আউশ মৌসুমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২০ টন ধানবীজ। তবে এর মধ্যে ১৮ টনই ফেরত গেছে যশোরে।
তথ্য অনুসারে, ১৮ টন ধানবীজ সরকার নির্ধারিত ৫৬ টাকা কেজি দরে ডিলার পর্যায়ে বিক্রি হবার কথা থাকলেও যশোরের একজন ডিলার তা ক্রয় করেন মাত্র ৩৪ টাকা কেজিতে। এতে সরকারের প্রতি কেজিতে ২২ টাকা করে লোকসান হয়েছে যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৩,৯৬,০০০ টাকা।
মাগুরা স্থানীয় ডিলারদের অভিযোগ এ সকল ধান এবং অন্যান্য বীজ প্রতিবারই মাগুরার বাইরের পাতানো সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করা হয়, অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করতে বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। গুদামে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতি ও নজরদারির অভাব রয়েছে ব্যাপক। মাগুরার নন সিড গুদামে বর্তমানে স্থায়ী কর্মচারীর সংকট স্পষ্ট।
তথ্য বলছে, এ গুদামে মজুদ ছিল, হাইব্রিড ৪৫২ কেজি, বিনা-২১ ৭৮০ কেজি, ব্রিধান ৪৮, ৯৮ ৩৩, ৪১০ কেজি এরমধ্যে ১৮ টন ধান বিতরণ করা হলেও দায়সারা মনিটরিং এবং স্টক যাচাই ছাড়া লরি চালানে যশোর পাঠানো হয়।
সরকারি তদারকি কমিটির কেউই গুদামের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন না বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মাগুরা জেলার ডিলাররা জানান, ‘আমরা দোষী না, বীজ তো দেরিতে আসে। আমরা ব্রিজ ক্রয় করতে চাইলেই বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়ায় আমাদেরকে তা দেয়া হয় না।
যশোরের ডিলার নিরঞ্জন সাহা জানান, “বীজ আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সময়মতো পাই না। ফলে কৃষকরা বাজার থেকে কিনে নেয়। তখন সরকারের গুদামে অবিক্রিত বীজ পড়ে থাকে। আবার যদি পরে দরে ছাড় দেয়, তখন দায় চাপানো হয় ডিলারের ওপর।”
মাগুরা সদরের স্থানীয় কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেনসহ মাগুরার আড়পাড়া ইউনিয়নের একজন বর্গাচাষি বলেন, “সরকারি বীজ কিনতে গেছিলাম, কিন্তু গুদামে কেউ ছিল না। আর বাজারে গেলে ৬০-৮০ টাকার নিচে কিছুই পাওয়া যায় না। অনেকে বাধ্য হয়ে পুরোনো বীজ বা অননুমোদিত উৎস থেকে কিনছে।”
এ বিষয়ে যশোরের উপপরিচালক (বীজ বিপণন) কৃষিবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “চাহিদার তুলনায় কিছু জায়গায় অতিরিক্ত বীজ পাঠানো হয়েছিল, যা ফেরত এসেছে। তবে সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রয় করা না গেলে ক্ষতি হয়, সেটা সত্য। নন সিড হিসাবে প্রতি বছর বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
সাবেক কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, “বিএডিসির বর্তমান ধানবীজ বিপণন ব্যবস্থায় কোনো স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট নেই। গুদামে লোকবল নেই, ডিলাররা বিক্ষুব্ধ, কৃষক বঞ্চিত। এখান থেকে নিয়মিত বীজ নষ্ট হচ্ছে, আর সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অপচয় হচ্ছে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন