কুমিল্লায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ১৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
বুধবার ভোরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ী এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর লালমাই থানায় দুটি ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়। এর প্রেক্ষিতে জেলাজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীতে জেলার বাঙ্গরাবাজার থানা এলাকায় ডাকাত দল সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করলে তারা ডাকাতি করতে ব্যর্থ হয়। এরপর ডাকাত দলটি দেবিদ্বার এলাকায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে এবং একটি কালো রঙের হাইয়েস গাড়িতে রওনা দেয়।

গোপন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ী এলাকায় মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল গাড়ির দরজা খুলে ও জানালার গ্লাস ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ওই মাইক্রোবাসে থাকা ১৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহার বিশ্বাস নামে আরো একজনসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি মাইক্রোবাস, কুড়াল, রামদা, চাপাতি, স্টিলের রড, প্লাস, ব্যাগসহ ডাকাতির সরঞ্জাম ও কিছু স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার শাহ আলম ওরফে দুলাল (৪৮), মো. মনির হোসেন (৪০), মো. মামুন মিয়া (২৪), মাহবুব আলম (৩৮), আলমগীর হোসেন (৩০), মো. আল আমিন (৩২), মো. কামাল হোসেন (৩২), শরীফ ওরফে মোশারফ শরীফ (৩২), মো. সুমন (৩৩), মো. খোকন (৪০), আল আমিন (২৫), মো. সোহেল (২৬), মো. আব্দুল আউয়াল (৫০) ও নিহার বিশ্বাস (৪৮)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, “এরা পেশাদার আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও গ্রামীণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। গ্রেফতারদের মধ্যে শাহ আলম ওরফে দুলালের বিরুদ্ধে ২৬টি, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ২১টি, সুমনের বিরুদ্ধে ১৩টি, সোহেলের বিরুদ্ধে ১৫টি এবং খোকনের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সম্প্রতি লালমাই, বরুড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর এলাকায় সংঘটিত একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন