ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় একদিনে তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের খৈরাটি গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির দা’র কোপে দাদি রওশন আরা বেগম (৫০) নিহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৃহপালিত একটি মুরগিকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নাতি সাখাওয়াত হোসেন (২১) দা দিয়ে দাদির ঘাড়ে কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক নাতি সাখাওয়াত, তার বাবা মোস্তফা (৪৮) ও ভাই সাজ্জাদ হোসেনকে (২৪) আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও লাঠিও উদ্ধার করা হয়েছে।
একই দিন রাতে উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের করমা গ্রামে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খোকন মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে খোকন মিয়ার ওপর হামলা চালায় এবং গুরুতর জখম করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার ভোরে উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের ভালুকবেড় (ডেকুরাপাড়া) গ্রামে ইসলাম উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা সকালে বাড়ির পেছনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নিহত ইসলাম উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত শবদর আলীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, এটি দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি চেয়েছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, “তিনটি ঘটনায় তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন