রাঙামাটিতে জুমে বাম্পার ফলন, চাষে ব্যস্ত জুমিয়ারা

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙামাটি প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৫:০৫ পিএম
রাঙামাটিতে জুমে বাম্পার ফলন, চাষে ব্যস্ত জুমিয়ারা

রাঙামাটিতে এবছর জুমচাষে এসেছে বাম্পার ফলন। প্রকৃতি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাহাড়ি জনপদে জুম ফসলের মৌসুমে ফিরেছে সমৃদ্ধির বার্তা। এখন চলছে জুম ফসল ঘরে তোলার শেষ সময়। ধান, মারফা, কুমড়া, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সাথী ফসল কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়ি জুমিয়ারা।

শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়, পাহাড়িদের সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে জুমচাষ। আধুনিক জীবনের নানা পেশায় যুক্ত হলেও জুম আজও পাহাড়িদের আস্থার প্রতীক হয়ে আছে। শরতের শেষভাগ, অর্থাৎ আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে পাহাড়ি পরিবারগুলোর চোখেমুখে দেখা দেয় উৎসবের আলো।

জুমচাষিরা জানান, প্রতিবছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাহাড় পরিস্কার করে জমি প্রস্তুত করা হয়। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে গর্ত করে ধান, মারফা, কুমড়া, তিল, আদা, তুলা, শিম ও ভুট্টাসহ নানা ফসল বপন করা হয়। এরপর ভাদ্র-আশ্বিন থেকে শুরু করে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত চলে ফসল কাটার ধুম।

রাঙামাটির বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের সূতা পাহাড়ের জুমচাষিরা জানান, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। যদি কৃষি বিভাগ উন্নত জাতের ধান ও বীজ সরবরাহ করত, তবে ফলন আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব হতো বলে মত তাদের।

সদর উপজেলার বড়গাঙ এলাকার জুমচাষি মঙ্গল চাকমা জানান, গত বছর ২০ কেজি ধানে ৪-৫ বস্তা ফলন পেয়েছিলেন। এ বছর ফলন আরও বেশি হবে বলে আশাবাদী তিনি।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবছর জেলার ৭ হাজার ৬৪৮ হেক্টর জমিতে জুম ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ফসল ইতোমধ্যে ঘরে উঠেছে।

জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও বৃষ্টিপাত সঠিক সময়ে হওয়ায় ধানসহ অন্যান্য সাথী ফসলের ফলন ভালো হয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চ ফলনশীল ধান ও আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারলে জুমিয়ারা আরও লাভবান হতে পারবেন। কৃষি বিভাগ এ লক্ষ্যে কাজ করছে।

কৃষি বিভাগ মনে করে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জুমচাষ সম্প্রসারণ করলে তা শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, বরং পাহাড়ি এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক ফসল বিক্রি এবং জুমিয়াদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথও সুগম করবে।

জেএইচআর